আইপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচেই চেন্নাইয়ের বাজিমাত

স্পোর্টস ডেস্ক:আইপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে জিতল চেন্নাই সুপার কিংস। শনিবার মহেন্দ্র সিংহ ধোনির দল চার বল বাকি থাকতে জিতল পাঁচ উইকেটে। প্রথম ম্যাচেই হারল গত বারের চ্যাম্পিয়ন রোহিত শর্মার মুম্বাই।

টস জিতে ফিল্ডিং নিয়েছিলেন সিএসকে নেতা মহেন্দ্র সিংহ ধোনি। অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের ভিড় ধোনির দলে, ‘ফিনিশার’ হিসেবে ছিলেন স্বয়ং তিনি। সেই কারণেই ‘ক্যাপ্টেন কুল’ মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে আগে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন।

শেষের দিকের ওভারে মুম্বাই পর পর উইকেট হারানোয় চেন্নাইয়ের সামনে খুব বড় রানের লক্ষ্য ছিলও না। গতবারের আইপিএল ফাইনালের শোধ তোলার জন্য ধোনির দলকে করতে হত ১৬৩ রান। ১৯.২ ওভারে লক্ষ্যে পৌঁছে গেল চেন্নাই (১৬৩-৫)।

রান তাড়া করতে নেমে চেন্নাইয়ের শুরু ভাল হয়নি। দুই ওভারের মধ্যে ফিরে গিয়েছিলেন দুই ওপেনার শেন ওয়াটসন (৪) ও মুরলী বিজয় (১)। দু’জনেই হন এলবিডব্লিউ।

ফেরান যথাক্রমে ট্রেন্ট বোল্ট ও জেমস প্যাটিনসন। এরপর তৃতীয় উইকেটে ফাফ দু’প্লেসি ও অম্বাতি রায়ডু নির্ভরতা দেন চেন্নাইকে। ১০ ওভারের শেষে দুই উইকেটে ৭০ ছিল সিএসকে-র স্কোর।

সেখান থেকে রায়ডু-ডু’প্লেসি ১১৫ রান যোগ করে ম্যাচকে ক্রমশ একপেশে করে তোলেন। এ বারের আইপিএলে প্রথম পঞ্চাশ করলেন রায়ডু। তার হাফ সেঞ্চুরি এল ৩৩ বলে।

৪৮ বলে ৭১ করে রায়ডু যখন লেগস্পিনার রাহুল চাহারকেই লোপ্পা ফিরতি ক্যাচ দিলেন, তখনও ২৪ বলে ৪২ রান করতে হবে চেন্নাইকে। রায়ডুর ইনিংসে ছিল ছয়টি চার ও তিনটি ছয়।

শেষ তিন ওভারে চেন্নাইয়ের প্রয়োজন ছিল ২৯ রান। হাতে ছিল সাত উইকেট। ক্রুণাল পান্ড্য ১৮তম ওভারের প্রথম বলেই এলবিডব্লিউ করেন জাদেজাকে (১০)। তার দাপটে শেষ ১২ বলে দরকার ছিল ১৬ রান। বুমরার বলে কারেন (ছয় বলে ১৮) ফেরার পর নামেন ধোনি।

শেষ ওভারে চেন্নাইয়ের প্রয়োজন ছিল পাঁচ রান। ট্রেন্ট বোল্টের দ্বিতীয় বলেই ম্যাচে দাঁড়ি টেনে দেন ডি’ভিলিয়ার্স (৪৪ বলে অপরাজিত ৫৫)। তার পঞ্চাশ এল ৫৮ বলে।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের শুরুটা খারাপ হয়নি। রোহিত শর্মা ও কুইন্টন ডি কক ওপেন করতে নেমেছিলেন। দীপক চহারের প্রথম বলটাই বাউন্ডারিতে পাঠান ‘হিটম্যান’। সঙ্গী কুইন্টন ডি ককও ছন্দে ছিলেন। চার ওভারের শেষে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের রান ছিল বিনা উইকেটে ৪৫।

ফাস্ট বোলাররা কাজে আসছেন না দেখে পীযূষ চাওলাকে ডেকে নিয়েছিলেন ধোনি। আর তাতেই বাজিমাত। পীযূষ চাওলা বল করতে এসেই ফিরিয়ে দেন রোহিতকে। ১০ বলে ১২ রান করে ফেরেন মুম্বাই অধিনায়ক। স্যাম কারেনের পরের ওভারেই আউট হন কুইন্টন ডি কক (২০ বলে ৩৩)।

৪৮ রানে পড়েছিল মুম্বইয়ের দ্বিতীয় উইকেট। তৃতীয় উইকেট পড়ল ৯২ রানে। দীপক চাহারের বলে ফিরলেন সূর্যকুমার যাদব (১৭)। চতুর্থ উইকেট পড়ল ১২১ রানে। ৩১ বলে ৪২ করে ফিরলেন সৌরভ তিওয়ারি।

বাঁ-হাতির ইনিংসে ছিল তিনটি চার ও একটি ছয়। রবীন্দ্র জাদেজার সেই ওভারেই ফিরলেন হার্দিক পান্ড্য (১০ বলে ১৪)। কয়েক বল পরেই সৌরভ-হার্দিককে ফিরিয়ে চেন্নাইকে ম্যাচে ফেরালেন ‘স্যর’ জাডেজা।

১৫ ওভারে পাঁচ উইকেট হারিয়ে মুম্বাই তুলেছিল ১২৬ রান। ওই অবস্থায় ভরসা ছিলেন কারেন পোলার্ড। কিন্তু, তিনি ১৮ রানের বেশি করতে পারলেন না। পোলার্ডের পর ক্রুণাল পান্ড্য (৩), জেমস প্যাটিনসনকেও (১১) ফেরালেন এনগিডি। ৩৮ রানে তিন উইকেট নেওয়া প্রোটিয়া পেসারই দলের সফলতম।

তার দাপটেই ডেথ ওভারে ক্রমাগত উইকেট হারাল মুম্বাই। দীপক চাহার ও রবীন্দ্র জাদেজা নিলেন দুটো করে উইকেট।

গত বারের ফাইনালে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সএর কাছে ১ রানে হেরে গিয়েছিল চেন্নাই সুপার কিংসকে। সেই হারের মধুর প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ এ দিন ছিল ধোনির দলের সামনে। এই ম্যাচে ক্রিকেটভক্তদের চোখ ছিল মহেন্দ্র সিংহ ধোনির দিকে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে