কুমিল্লার লালমাইয়ে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে ইউপি সদস্যে মিলনের তৎপরতা

ছবির বায়ে মেম্বার মিলন ডানে প্রতীকী ছবি

স্টাফ রিপোর্টার: কুমিল্লা লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের মাতাইনকোট গ্রামে ৬ষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী আসমা আক্তার(ছদ্দনাম)কে পালাক্রমে ধর্ষণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আসমা আক্তার নানার বাড়িতে থেকে (ছদ্দনাম) স্থানীয় মাতাইনকোট উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে অধ্যয়ণ করছে বলে জানা যায়।

বিশেষ সূত্রে জানা যায়- গত কয়েকমাস পূর্বে আসমা আক্তারের আপন মামা সুলতান মিয়ার পুত্র নুরুল আলম(১৮), আবুল খায়েরের পুত্র শাফায়াত(২১) মৃত. রবিউল হোসেনের পুত্র মামুন(২৫),সায়েদ আলীর পুত্র আবু বকর(২০) পালাক্রমে ধর্ষণ করে থাকে। পরবর্তীতে আসমা আক্তার (ছদ্দনাম) অন্ত:সত্বা হলে তাহার মা বকুল বেগম (ছদ্দনাম) ৭নং ওয়ার্ডের স্থানীয় ইউপি সদস্য মাহবুবুল আলম মিলনের সাথে ধর্ষণের ঘটনাটি পরামর্শ করে থাকে। ইউপি সদস্য মিলনের নির্দেশক্রমে গত কয়েকদিন পূর্বে মা বকুল বেগম ধর্ষিত আসমা আক্তারকে নিয়ে স্থানীয় ভূশ্চি বাজারের গ্রাম্য চিকিৎসক আছিয়া খাতুন মিনুর চেম্বারে যায়, সেখানে গ্রাম্য চিকিৎসক বেআইনি ভাবে আসমা আক্তারের গর্ভপাত নষ্ট করে দেয়। পরবর্তীতে অভিযুক্ত নুরুল আলম, শাফায়াত, মামুন ও আবু বকরের পরিবারের সাথে ইউপি সদস্য মাহবুবুল আলম মিলন সালিশি বৈঠক করে আসমা আক্তারের(ছদ্দনাম) পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিলেও আদোও পর্যন্ত ধর্ষিত পরিবার কোন প্রকার ক্ষতিপূরণ পাননি।

এদিকে ধর্ষণের ঘটনাটি ধামা চাপা দিতে বেশ কয়েকবার ধর্ষিত আসমা আক্তারের বাবা বাবুল মিয়া(ছদ্দনাম)কে হুশিয়ারি করেন ইউপি সদস্য মিলন। এবিষয়ে লালমাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি জানান-প্রাথমিক ভাবে ধর্ষণের সত্যতা পাওয়া গিয়েছে, শুক্রবার তথ্যটি আমার নিকট আসা মাত্রই লালমাই উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রফিকুল ও পুলিশ সদস্যদের ঘটনাস্থলে পাঠাই। ধর্ষণের ঘটনাটি বেশ কয়েকবার স্থানীয়রা লালমাই থানা পুলিশকে জানালেও তাহার কোন প্রকার প্রতিকার পাননি ধর্ষিত পরিবার।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার বিভিন্ন পেশাজীবির ব্যক্তিরা অভিযোগ করে বলেন-ধর্ষিত আসমা আক্তার(ছদ্দনাম)এর ঘটনাটি ধামা চাপা দিতে গোপনে পেরুল উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল বাশার এর অনুমতি বিহীন মাতাইনকোট গ্রামের মধ্যে বেশ কয়েকবার অভিযুক্ত পরিবারের সদস্যদের নিয়ে উঠান বৈঠক করেন পেরুল ইত্তর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড মেম্বার মাহবুবুল আলম মিলন।

আজ রবিবার মুঠোফোনে পেরুল উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল বাশার এর সাথে কথা বললে তিনি জানান-বিষয়টি খুবই মর্মান্তিক, ধর্ষণের ঘটনাটি পূর্বে আমাকে কেউ জানায়নি, আমি রবিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে ঘটনার বিষয়ে অবগত হয়েছি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ধর্ষিত পরিবারকে সহযোগিতা করবো। এঘটনায় ধর্ষিত পরিবার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছে জিম্মি থাকায় এখনো পর্যন্ত লালমাই থানায় কোন প্রকার মামলা হয়নি।


একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে