একটি সন্ধ্যা, যা শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়—বরং ৬৩টি জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত। সিলেট নগরীর আমান উল্লাহ কনভেনশন সেন্টার যেন এদিন পরিণত হয়েছিল ভালোবাসা, সহমর্মিতা আর মানবিকতার মিলনমেলায়।
নন-প্রফিটেবল সংগঠন ‘সিটস অব সদাকা’-এর উদ্যোগে একসাথে ৬৩ জন এতিম কন্যার গণবিবাহ সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি বিয়ে যেন এক একটি গল্প—অভাব, সংগ্রাম আর অনিশ্চয়তার ভেতর থেকে উঠে আসা নতুন জীবনের আলো।
বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হতেই দেখা যায় এক আবেগঘন দৃশ্য—নবদম্পতিরা সারিবদ্ধভাবে বসেছেন খাবারের টেবিলে। কনেদের চোখেমুখে লাজুক হাসি, কোথাও আবার অশ্রুসজল আবেগ; আর বরদের মুখে দায়িত্বের নতুন প্রতিশ্রুতি। চারপাশে আত্মীয়স্বজনের আনন্দ, শুভেচ্ছা আর দোয়ার মৃদু গুঞ্জন—সব মিলিয়ে এক অন্যরকম পরিবেশ।
অনুষ্ঠানস্থলজুড়ে ছিল আলোকসজ্জা আর পরিপাটি আয়োজন, যা কোনো অংশেই একটি সাধারণ বিয়ের অনুষ্ঠানের চেয়ে কম নয়। বরং প্রতিটি আয়োজনে ছিল যত্ন, সম্মান আর ভালোবাসার ছোঁয়া।
এ বিষয়ে সংগঠনের অন্যতম উদ্যোক্তা ডা. ওয়ারাকাতুল জান্নাত বলেন,
“আমরা চাই, এতিম মেয়েদের বিয়েও যেন অন্য সবার মতো সম্মানজনকভাবে হয়। তারা যেন কখনো নিজেকে অবহেলিত না ভাবে—এই লক্ষ্য নিয়েই আমাদের পথচলা।”
এই মানবিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রতিটি কনেকে দেওয়া হয়—
দুই পিস শাড়ি, চুড়ি, আলতা, স্নো, জায়নামাজ, সালোয়ার-কামিজ ও বোরখা।
বরদের জন্য ছিল—
পাঞ্জাবি, পায়জামা, শার্ট, প্যান্ট, লুঙ্গি, ঘড়িসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী।
এছাড়া মহরানা হিসেবে কনেদের জন্য স্বর্ণের দুল প্রদান করা হয়, যা অনুষ্ঠানের মর্যাদা আরও বাড়িয়ে তোলে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিবছরই এই আয়োজন করা হয় এবং সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতায় এটি আরও বিস্তৃত হচ্ছে। অনেক এতিম কন্যা, যাদের বিয়ে দেওয়া পরিবারের পক্ষে সম্ভব ছিল না, তারা এই উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন জীবনে পা রাখার সুযোগ পাচ্ছে।
সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, এমন উদ্যোগ কেবল দান নয়—এটি একটি সামাজিক আন্দোলন, যা সমাজে সমতা, সহানুভূতি ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে।
সিলেটের এই আয়োজন যেন একটি বার্তা দিয়ে গেল—মানবতা এখনও বেঁচে আছে, আর একটু সহানুভূতিই বদলে দিতে পারে বহু মানুষের জীবন।




