লাকসামে যৌতুকের জন্য দুই সন্তানের জননীকে নির্যাতনের অভিযোগ


লাকসাম প্রতিনিধি: কুমিল্লার লাকসামে যৌতুকের জন্য দুই সন্তানের জননীকে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী হোসনে আরা বাদি হয়ে গত ৯/৮/২০২০ তারিখে কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালে লাকসাম উপজেলার উত্তরদা ইউনিয়নের রামারবাগ গ্রামের মৃত হুমায়ুন কবিরের মেয়ে হোসনে আরাকে সামাজিক ভাবে বিয়ে করেন একই গ্রামের মৌলভী পেয়ার আহম্মদের ছেলে দুবাই প্রবাসী আবু হানিফ। বর্তমানে দাম্পত্য জীবনে তাদের দুইটি সন্তান রয়েছে। সন্তানদের পড়াশুনার সুবিধার্থে হোসনে আরা লাকসাম পৌর শহরের পশ্চিমগাঁও পুরান বাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। এর মধ্যে হোসনে আরার স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন হোসনে আরার পিত্রালয় থেকে দুই দফায় সাড়ে ৫ লাখ টাকা ধার নেন এবং তা পরিশোধ না করে তারা সুকৌশলে হোসনে আরার ব্যবহার্য ৩ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকারও আত্মসাৎ করেন।

২০১৯ সালের নভেম্বরে স্বামী আবু হানিফ দেশে আসেন। একই বছরের ৫ ডিসেম্বর আবু হানিফ তার পিতা মৌলভী পেয়ার আহম্মদ, মাতা আয়েশা খাতুন, বোন হাজেরা, রাবেয়া ও ভাই মোস্তফা মিয়াকে পশ্চিমগাঁও পুরান বাজার এলাকায় হোসনে আরার ভাড়া বাসায় গিয়ে নিজ বাড়িতে ঘর নির্মাণের অজুহাত দেখিয়ে হোসনে আরার কাছে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। যৌতুক দিতে অস্বীকার করায় তারা হোসনে আরাকে মারধর করে।

এ ঘটনার কিছুদিন পর স্বামী আবু হানিফ পুনরায় প্রবাসে চলে যায় এবং হোসনে আরার সাথে যোগাযোগ করা ও ভরণপোষণ দেয়া বন্ধ করে দেয়। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকবার বিষয়টি সামাজিক ভাবে মীমাংসা করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন হোসনে আরার পরিবার। গত ৭ আগস্ট শুক্রবার বিকেলে বিরোধ মীমাংসার লক্ষ্যে হোসনে আরা শ্বশুর বাড়িতে গেলে তারা পুনরায় যৌতুক দাবি করে। যৌতুক দিতে অস্বীকার করায় তার শ্বশুর, শাশুড়ী, ভাসুর ও ননদরা হোসনে আরাকে এলাপাতাড়ি মারধর করে এবং যৌতুক না দিলে সংসার নষ্ট ও তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

এ ঘটনার পরদিন কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ৬ জনকে বিবাদী করে অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী হোসনে আরা। এ বিষয়ে হোসনে আরা বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই আমার শ্বশুর, শাশুড়ী, ভাসুর ও ননদরা আমাকে বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন করতো। তারা আমার বাপের বাড়ি থেকে দুই দফায় সাড়ে ৫ লাখ টাকা ধার নেন এবং তা পরিশোধ না করে আমার ৩ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করেন। ২০১৯ সালের শেষের দিকে আমার স্বামী দুবাই থেকে আসার পর ৫ ডিসেম্বর তিনি আমার শ্বশুর, শাশুড়ী, ভাসুর ও ননদদেরকে নিয়ে আমার বাসায় এসে আমার কাছে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। আমি যৌতুক দিতে অস্বীকার করায় তারা আমাকে মারধর করে।

এ ঘটনার কিছুদিন পর আমার স্বামী আবু হানিফ পুনরায় প্রবাসে চলে যায় এবং আমার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। ইতোমধ্যে আমার পরিবারের লোকরা সামাজিক ভাবে মীমাংসা করার চেষ্টা করেছে বেশ কয়েকবার। আমার শ্বশুর বাড়ির লোকেরা সাড়া দেয়নি। গত ৭ আগস্ট শুক্রবার বিকেলে আমি বিরোধ মীমাংসার লক্ষ্যে শ্বশুর বাড়িতে গেলে তারা পুনরায় আমার কাছে যৌতুক দাবি করে। যৌতুক দিতে অস্বীকার করায় আমাকে এলাপাতাড়ি মারধর করে এবং যৌতুক না দিলে সংসার ভেঙে ফেলা এবং আমাকে প্রাণে মারার হুমকি দেয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমার স্বামী প্রবাসে থাকার সুবাদে তিনি একাাধিক পরকীয়ার সম্পর্কে জড়িত আছেন। আমি বারবার ওনাকে সংশোধনের চেষ্টা করায় তিনি আমার প্রতি ক্ষুব্ধ। আর তাই প্রবাসে থেকেও ওনার পরিবারকে দিয়ে আমাকে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করছেন এবং আমি ও আমার সন্তানদেরকে ভরণপোষণ দিচ্ছেন না।’

মামলার বিবাদি আবু হানিফের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনে বলেন- মামলার বাদী আমার তালাকপ্রাপ্ত বউ ওই মহিলা এখন আমার কেউ না, তার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই।

মারামারি বিষয়টা অস্বীকার করে বলেন আমি প্রবাসে সুতারাং নারী নির্যাতনের প্রশ্নই আসেনা আমার ও পরিবারের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।


একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে