শিকলে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় ছাত্রকে নির্যাতন, অধ্যক্ষসহ গ্রেফতার ৩

নির্যাতনের শিকার মাদ্রাসার ছাত্র মোবারক

অনলাইন ডেস্ক: শিকল দিয়ে বেঁধে তিন দিন ধরে এক মাদ্রাসাছাত্রকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের ঘটনায় পাবনার ঈশ্বরদীতে কদিমপাড়া বুড়া দেওয়ান নূরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল ৯ অক্টোবর, শুক্রবার জুমার নামাজের সময় মোবারক (১১) নামের ওই শিক্ষার্থী পালিয়ে যাওয়ার পর নির্যাতনের ঘটনাটি ফাঁস হয়।

ঈশ্বরদীর সাহাপুর ইউনিয়নের কদিমপাড়া বুড়া দেওয়ান নূরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসায় এ ঘটনাটি ঘটে। রাতেই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হাফেজ আব্দুল মমিন, শিক্ষক পিয়ারুল ইসলাম ও সিনিয়র শিক্ষার্থী সাব্বির আহম্মেদকে আটক করে থানায় আনা হয়।

জানা গেছে, আটঘোরিয়া উপজেলার চাঁদভা ইউনিয়নের বাঁচামরা গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে মোবারক ওই মাদ্রাসার আমপারা শেষ করে মাদ্রাসার নূরানী বিভাগের শিক্ষার্থী। সে ক’দিন আগেও মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে পালিয়ে বাড়িতে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ করে।

পরে পরিবারের সদস্যরা বুঝিয়ে বুধবার তাকে ফের মাদ্রাসায় পাঠায়। এরপর থেকেই তাকে শেকল দিয়ে বেঁধে রেখে মারধোর করা হচ্ছিল। শুক্রবার জুমার নামাজের সময় সে কৌশলে শেকলসহ পালিয়ে যায়।

এলাকার লোকজন শেকলে বাঁধা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। থানায় আনার পর মোবারকের পেছন দিকে কোমড়ের নীচে পা পর্যন্ত নির্মম আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।

এসময় তার মা অভিযোগ করেন, তিন দিন শিকল দিয়ে বেঁধে মারধর ছাড়াও মোবারককে ৭ বার থুতু ফেলে সেই থুতু তাকে দিয়ে চাটানো হয়েছে।

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফিরোজ কবীর ও অফিসার ইনচার্জ সেখ নাসীর উদ্দিন এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তারা জানান, খবর পেয়ে মাদ্রাসার শিক্ষকদের থানা হেফাজতে আনা হয়েছে। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে