ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদকের ভয়াবহ বিস্তার: বিজয়নগরের এক অংশেই ৬১টি মাদকস্পট

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদক ব্যবসার বিস্তার ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক পাচার ও বিক্রি এখন উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বিশেষ করে বিজয়নগর উপজেলার একটি ইউনিয়নের অংশেই বিপুল সংখ্যক মাদক স্পটের সন্ধান পাওয়া গেছে।
রবিবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এ চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেন পুলিশ সুপার শাহ মো. আবদুর রউফ।
 সিঙ্গারবিলে ৬১টি মাদক স্পট
সভায় পুলিশ সুপার জানান, মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে। এ তালিকা করতে গিয়ে বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের একটি অংশেই ৬১টি মাদক স্পট শনাক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন,
“বিজয়নগরের অবস্থা এতটাই ভয়াবহ যে কল্পনাও করা কঠিন। এখানে গেলে খুব সহজেই ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক পাওয়া যায়।”
তিনি আরও জানান, এলাকা, গ্রাম ও পাড়া-মহল্লাভিত্তিকভাবে মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে কঠোর অভিযানের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
 জনপ্রতিনিধিদের উদ্বেগ
সভায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের সংসদ সদস্য এম.এ. হান্নান বলেন,
“নাসিরনগর আগে তুলনামূলকভাবে ভালো ছিল। এখন এটি মাদক পাচারের রুটে পরিণত হয়েছে।”
তিনি সম্প্রতি ফেসবুকে গাঁজার বড় চালান আটকের বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে মাদকবিরোধী সভা আয়োজন করা জরুরি। বিশেষ করে নাসিরনগরের ধরমন্ডল এলাকায় মাদকের ব্যবহার বেশি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
 কঠোর আইনি ব্যবস্থার দাবি
জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মোবারক হোসাইন আকন্দ বলেন,
“মাদক সম্রাটদের গ্রেপ্তারের পর যেন তারা সহজে জামিন না পায়, সে ব্যবস্থা করতে হবে।”
অন্যদিকে জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জহিরুল হক খোকন বলেন,
“আমরা সবাই জানি কারা মাদক ব্যবসায়ী। কিন্তু প্রশ্ন হলো—তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে কে?”
তিনি আরও বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জামিন পেলেও পুনরায় মামলা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে।
 সম্মিলিত প্রতিরোধের আহ্বান
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পাবলিক প্রসিকিউটর ফখর উদ্দিন আহমেদ খান বলেন, প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় বিশিষ্টজনদের সমন্বয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ বলেন,
“মাদকের বিরুদ্ধে আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করছি। খুব শিগগিরই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
 অপরাধ পরিসংখ্যান (মার্চ মাস)
সভায় উপস্থাপিত অপরাধ বিবরণীতে দেখা যায়—
চাঁদাবাজি ও ছিনতাই: ০টি
ডাকাতি: ১টি
চুরি: ১৫টি
আত্মহত্যা (গলায় ফাঁস): ১৯ জন
 উদ্বেগ বাড়াচ্ছে পরিস্থিতি
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া মাদক পাচারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে পরিণত হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন