১১:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রায়বাজার দক্ষিণা কালী মন্দির প্রাঙ্গণে “শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ” অনুষ্ঠানে ভক্তবৃন্দের ভিড়

  • Miah Suleman
  • পোস্ট হয়েছেঃ ০৫:৪৯:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ জুন ২০২৫
  • 444
আঠারবাড়িস্থ হিন্দুধর্মানুসারী যুবকদের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। তারা শুরু করেছে “শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ” কর্মসূচি, যার মাধ্যমে নৈতিক বিকাশের পরিবেশ গড়ে তোলতে চেষ্টা অব্যহত রাখছে। যা উক্ত ধর্মানুসারীদের প্রশংসায় অলংকৃত। গীতার শ্লোক পাঠ ও আলোচনান্তে বাংলা অনুবাদ ও সারাংশ উপস্থাপন করে সহজভাবে তুলে ধরায় উপস্থিতভক্তদের মধ্যে এক ধরণের মানসিক অনুশীলন সৃষ্টি হয়।ফলে, বাস্তব জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং জীবনানুভূতিতে, সংযম, ও আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়।- বক্তব্য আগত এক ভক্তানুরাগীর।
অপর একজন অতিশিপরায়ন বলেন, গীতাপাঠের শিক্ষা জীবনের গভীর কিছু কথা আমাদের শেখায়। ফলসরূপ; কর্মফল ত্যাগ, আত্মার অমরত্ব, কর্তব্যে নিষ্ঠা— এগুলো একজন নাগরিকের চরিত্র গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই উদ্যোগ যেন বহমান থাকে।
সরজমিনে দেখা যায়, আগত ভক্তবৃন্দ শৃঙ্খলা বজায় রেখে ঈশ্বর বন্দনায় ব্যতিব্যস্ত। দয়াল চন্দ্র বণিক (সহকারী শিক্ষক, মিতালী উচ্চ বিদ্যালয়) বলেন, গীতার শিক্ষা শুধু ব্যক্তিগত উন্নয়নের জন্য নয়, বরং এটি সমাজ গঠনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একজন আদর্শ নাগরিকের মধ্যে যে গুণাবলী থাকা দরকার— যেমন কর্তব্যনিষ্ঠা, আত্মনিয়ন্ত্রণ, সহিষ্ণুতা, দয়া, এবং অহিংসা— সেগুলির বীজ নিহিত আছে গীতার প্রতিটি শ্লোকে।
[গীতাকে বলা হয় মানব ধর্মতত্ত্বের সংক্ষিপ্ত পাঠ এবং হিন্দুদের জীবনচর্যার ব্যবহারিক পথনির্দেশিকা। এই বিষয়টি ব্যাখ্যা করে প্রতিক্রিয়া নির্দেশ করেছেন ভাদুড়ী মহাশয়- মহর্ষি নগেন্দ্রনাথ : “অগ্রে অর্জুন ভগবানকে তাঁহারই মত একজন মানুষ মনে করিয়াছিলেন। কিন্তু এইরূপ দেখিয়া যখন অর্জুনের ভ্রমজ্ঞান তিরোহিত হইল, তখন তিনি তাঁহাকে ‘পুরাণ পুরুষ’ ‘আদি পুরুষ’ বলিয়া সম্বোধন করিলেন।”
এছাড়াও, ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু ভগবদ্গীতা প্রসঙ্গে বলেছেন: “ভগবদগীতা মানব অস্তিত্বের আধ্যাত্মিক ভিত্তিটির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। জীবনের দায়দায়িত্ব ও কর্তব্যকর্মের জন্য কর্মের ডাক দেওয়া হয়েছে গীতায়। সেই সঙ্গেই আধ্যাত্মিক প্রকৃতি ও মহাবিশ্বের বৃহত্তর উদ্দেশ্যটির দিকেও দৃষ্টি রাখা হয়েছে।” তথ্যসূত্র- গুগল]
“ভক্তবৃন্দের উপচে পড়া ভিড়” পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজকদের নিকট জানতে চাইলে, তারা বলেন- অনুষ্ঠান পরিচালনায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অনুষ্ঠান মানেই সময়ানুবর্তিতা, দায়িত্ববোধ ও নিয়মশৃঙ্খলার একটি নিখুঁত সমন্বয়। এই বিষয়টি বিদ্যমান থাকায় অংশগ্রহণকারীদের মনে স্থায়ী প্রভাব ফেলেছে এবং সকলের সহযোগিতায় এই অনুষ্ঠানটি সফলতা লাভ করেছে।
আয়োজক কমিটির সদস্যগণ সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
ট্যাগঃ
প্রতিনিধির তথ্য

জনপ্রিয় পোস্ট

বিয়ের ১৬ দিনের মাথায় আগুনে পুড়ে প্রাণ গেল নববধূর, বিশ্বনাথে মর্মান্তিক ঘটনা

রায়বাজার দক্ষিণা কালী মন্দির প্রাঙ্গণে “শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ” অনুষ্ঠানে ভক্তবৃন্দের ভিড়

পোস্ট হয়েছেঃ ০৫:৪৯:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ জুন ২০২৫
আঠারবাড়িস্থ হিন্দুধর্মানুসারী যুবকদের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। তারা শুরু করেছে “শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ” কর্মসূচি, যার মাধ্যমে নৈতিক বিকাশের পরিবেশ গড়ে তোলতে চেষ্টা অব্যহত রাখছে। যা উক্ত ধর্মানুসারীদের প্রশংসায় অলংকৃত। গীতার শ্লোক পাঠ ও আলোচনান্তে বাংলা অনুবাদ ও সারাংশ উপস্থাপন করে সহজভাবে তুলে ধরায় উপস্থিতভক্তদের মধ্যে এক ধরণের মানসিক অনুশীলন সৃষ্টি হয়।ফলে, বাস্তব জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং জীবনানুভূতিতে, সংযম, ও আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়।- বক্তব্য আগত এক ভক্তানুরাগীর।
অপর একজন অতিশিপরায়ন বলেন, গীতাপাঠের শিক্ষা জীবনের গভীর কিছু কথা আমাদের শেখায়। ফলসরূপ; কর্মফল ত্যাগ, আত্মার অমরত্ব, কর্তব্যে নিষ্ঠা— এগুলো একজন নাগরিকের চরিত্র গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই উদ্যোগ যেন বহমান থাকে।
সরজমিনে দেখা যায়, আগত ভক্তবৃন্দ শৃঙ্খলা বজায় রেখে ঈশ্বর বন্দনায় ব্যতিব্যস্ত। দয়াল চন্দ্র বণিক (সহকারী শিক্ষক, মিতালী উচ্চ বিদ্যালয়) বলেন, গীতার শিক্ষা শুধু ব্যক্তিগত উন্নয়নের জন্য নয়, বরং এটি সমাজ গঠনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একজন আদর্শ নাগরিকের মধ্যে যে গুণাবলী থাকা দরকার— যেমন কর্তব্যনিষ্ঠা, আত্মনিয়ন্ত্রণ, সহিষ্ণুতা, দয়া, এবং অহিংসা— সেগুলির বীজ নিহিত আছে গীতার প্রতিটি শ্লোকে।
[গীতাকে বলা হয় মানব ধর্মতত্ত্বের সংক্ষিপ্ত পাঠ এবং হিন্দুদের জীবনচর্যার ব্যবহারিক পথনির্দেশিকা। এই বিষয়টি ব্যাখ্যা করে প্রতিক্রিয়া নির্দেশ করেছেন ভাদুড়ী মহাশয়- মহর্ষি নগেন্দ্রনাথ : “অগ্রে অর্জুন ভগবানকে তাঁহারই মত একজন মানুষ মনে করিয়াছিলেন। কিন্তু এইরূপ দেখিয়া যখন অর্জুনের ভ্রমজ্ঞান তিরোহিত হইল, তখন তিনি তাঁহাকে ‘পুরাণ পুরুষ’ ‘আদি পুরুষ’ বলিয়া সম্বোধন করিলেন।”
এছাড়াও, ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু ভগবদ্গীতা প্রসঙ্গে বলেছেন: “ভগবদগীতা মানব অস্তিত্বের আধ্যাত্মিক ভিত্তিটির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। জীবনের দায়দায়িত্ব ও কর্তব্যকর্মের জন্য কর্মের ডাক দেওয়া হয়েছে গীতায়। সেই সঙ্গেই আধ্যাত্মিক প্রকৃতি ও মহাবিশ্বের বৃহত্তর উদ্দেশ্যটির দিকেও দৃষ্টি রাখা হয়েছে।” তথ্যসূত্র- গুগল]
“ভক্তবৃন্দের উপচে পড়া ভিড়” পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজকদের নিকট জানতে চাইলে, তারা বলেন- অনুষ্ঠান পরিচালনায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অনুষ্ঠান মানেই সময়ানুবর্তিতা, দায়িত্ববোধ ও নিয়মশৃঙ্খলার একটি নিখুঁত সমন্বয়। এই বিষয়টি বিদ্যমান থাকায় অংশগ্রহণকারীদের মনে স্থায়ী প্রভাব ফেলেছে এবং সকলের সহযোগিতায় এই অনুষ্ঠানটি সফলতা লাভ করেছে।
আয়োজক কমিটির সদস্যগণ সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।