
ড.মো.মজিবুর রহমান একাধারে বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব,বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবং বাণিজ্য নীতি বিশেষজ্ঞ। দেশের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অত্যন্ত গৌরবোজ্জ্বল।ড. মো. মজিবুর রহমান ১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দের ৩১শে ডিসেম্বর পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার আহম্মদপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর শৈশব ও কৈশোরের একটি বড় অংশ কেটেছে নিজ জেলা পাবনাতেই।মেধাবী এই ব্যক্তিত্ব পাবনার স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি ১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দে পাবনার ঐতিহ্যবাহী সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে কৃতিত্বের সাথে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পাস করেন,এরপর তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দে অত্যন্ত সফলতার সাথে স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি অর্জন করেন।পরবর্তী সময়ে তিনি উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে ডক্টরেট (পিএইচডি) ডিগ্রি লাভ করেন।
শিক্ষাজীবন শেষে তিনি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে (বিসিএস) যোগ দেন এবং সততা ও দক্ষতার সাথে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দায়িত্ব পালন করেন।কর্মজীবনে তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ‘সচিব’ হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান: দেশের অভ্যন্তরীণ শিল্প সুরক্ষা এবং শুল্ক নীতি নির্ধারণে তিনি বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটের (BFTI) সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা: আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নীতি গবেষণায় দেশের শীর্ষস্থানীয় এই প্রতিষ্ঠানে তিনি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।২০১১ সালে বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট বিষয়ে সরকার কর্তৃক গঠিত বিশেষ কোর কমিটির প্রধান (প্রধান সমন্বয়ক) হিসেবে তিনি সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বে গঠিত কমিটি একটি সমন্বিত ট্রানজিট মাশুল কাঠামো ও সুপারিশমালা প্রণয়ন করেছিল।তিনি এলাকার শিক্ষা, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে নিয়মিত অনুদান ও সহযোগিতা প্রদান করে আসছেন। নিদর্শন হিসেবে বলা যায় সৈয়দপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, আহম্মদপুর আহমাদীয়া দাখিল মাদ্রাসা এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে একজন সৎ, সজ্জন ও পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিত্ব হিসেবে তাঁর ব্যাপক পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতাএবং অফুরন্ত সুনাম রয়েছে।

