০১:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দেবীগঞ্জে পঞ্চানন বর্মার তিরোধান দিবস উদযাপন ও শিব মন্দিরের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে “ক্ষত্রকূল শিরোমণি রায়সাহেব ঠাকুর পঞ্চানন বর্মা”র ৯১তম তিরোধান দিবস পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) দেবীগঞ্জ পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ড পেড়ালবাড়ি সমিতির ডাংগায় অবস্থিত ঐতিহাসিক “শ্রী শ্রী সীতানাথ মহাক্ষেত্র ধাম” -এ  উপজেলা ক্ষত্রিয় সমিতির আয়োজনে “ঠাকুর পঞ্চানন বর্মা”র ৯১তম তিরোধান দিবস পালিত হয়েছে।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে ঠাকুর পঞ্চাননের স্মৃতি ভাষ্কর্যে পুষ্পস্তবক অর্পণ, প্রার্থনা,  স্মরণসভা এবং  আধুনিক শিব মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলহাজ ফরহাদ হোসেন আজাদ।
তিনি তার বক্তব্যে সনাতনী সমাজের মানুষদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন।
মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা ক্ষত্রিয় সমিতির সাধারণ সম্পাদক হরিশ চন্দ্র রায়ের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্দির কমিটির সভাপতি ও দেবীগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ উমাপতি রায়।
স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, “ঠাকুর পঞ্চানন বর্মা ছিলেন উত্তরবঙ্গের অবহেলিত রাজবংশী জনগোষ্ঠীর আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠার অগ্রদূত। তিনি সমাজ সংস্কার, শিক্ষা বিস্তার ও অধিকার আদায়ের জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন”।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান করেন কেন্দ্রীয় ক্ষত্রিয় সমিতির সাবেক সভাপতি গোরাচাঁদ অধিকারী,
ঠাকুরগাঁও জেলা ক্ষত্রিয় সমিতির সভাপতি বাবু নির্মল চন্দ্র রায় ও সাধারণ সম্পাদক রশ্মিমোহন সিনহা, নীলফামারি জেলা ক্ষত্রিয় সমিতির সভাপতি বাবু অনিমেষ রায়, দেবীগঞ্জ উপজেলা ক্ষত্রিয় সমিতির অন্যতম সদস্য ডা. দ্বিজেন্দ্রনাথ রায়, ঠাকুরগাঁও উপজেলা ক্ষত্রিয় সমিতির সভাপতি প্রফুল্ল চন্দ্র রায় প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ঠাকুর পঞ্চানন বর্মা (১৮৬৭–১৯৩৫)  কোচবিহারের একজন বিশিষ্ট রাজবংশী নেতা, রাজনীতিবিদ, আইনজীবী ও সমাজ সংস্কারক ছিলেন । তিনি “ঠাকুর পঞ্চানন”, “পঞ্চানন সরকার” ও “রায়সাহেব” নামেও পরিচিত ছিলেন। রাজবংশী সমাজে ব্রাহ্মণ্য মূল্যবোধ ও রীতিনীতি পুনর্জাগরণের লক্ষ্যে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ক্ষত্রিয় সভা।এই সংগঠনের মাধ্যমে তিনি রাজবংশী সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে আত্মপরিচয় ও অধিকার আদায়ে নেতৃত্ব দেন। তাঁর জীবন ও কর্ম উত্তরবঙ্গের রাজবংশী সমাজসহ দেশের অসহায় জনগোষ্ঠীর প্রেরণার উৎস হয়ে আছে।
ট্যাগঃ
প্রতিনিধির তথ্য

জনপ্রিয় পোস্ট

বামনায় যুবদলের মতবিনিময় সভা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী পালিত

দেবীগঞ্জে পঞ্চানন বর্মার তিরোধান দিবস উদযাপন ও শিব মন্দিরের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন

পোস্ট হয়েছেঃ ০৬:০২:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে “ক্ষত্রকূল শিরোমণি রায়সাহেব ঠাকুর পঞ্চানন বর্মা”র ৯১তম তিরোধান দিবস পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) দেবীগঞ্জ পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ড পেড়ালবাড়ি সমিতির ডাংগায় অবস্থিত ঐতিহাসিক “শ্রী শ্রী সীতানাথ মহাক্ষেত্র ধাম” -এ  উপজেলা ক্ষত্রিয় সমিতির আয়োজনে “ঠাকুর পঞ্চানন বর্মা”র ৯১তম তিরোধান দিবস পালিত হয়েছে।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে ঠাকুর পঞ্চাননের স্মৃতি ভাষ্কর্যে পুষ্পস্তবক অর্পণ, প্রার্থনা,  স্মরণসভা এবং  আধুনিক শিব মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলহাজ ফরহাদ হোসেন আজাদ।
তিনি তার বক্তব্যে সনাতনী সমাজের মানুষদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন।
মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা ক্ষত্রিয় সমিতির সাধারণ সম্পাদক হরিশ চন্দ্র রায়ের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্দির কমিটির সভাপতি ও দেবীগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ উমাপতি রায়।
স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, “ঠাকুর পঞ্চানন বর্মা ছিলেন উত্তরবঙ্গের অবহেলিত রাজবংশী জনগোষ্ঠীর আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠার অগ্রদূত। তিনি সমাজ সংস্কার, শিক্ষা বিস্তার ও অধিকার আদায়ের জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন”।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান করেন কেন্দ্রীয় ক্ষত্রিয় সমিতির সাবেক সভাপতি গোরাচাঁদ অধিকারী,
ঠাকুরগাঁও জেলা ক্ষত্রিয় সমিতির সভাপতি বাবু নির্মল চন্দ্র রায় ও সাধারণ সম্পাদক রশ্মিমোহন সিনহা, নীলফামারি জেলা ক্ষত্রিয় সমিতির সভাপতি বাবু অনিমেষ রায়, দেবীগঞ্জ উপজেলা ক্ষত্রিয় সমিতির অন্যতম সদস্য ডা. দ্বিজেন্দ্রনাথ রায়, ঠাকুরগাঁও উপজেলা ক্ষত্রিয় সমিতির সভাপতি প্রফুল্ল চন্দ্র রায় প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ঠাকুর পঞ্চানন বর্মা (১৮৬৭–১৯৩৫)  কোচবিহারের একজন বিশিষ্ট রাজবংশী নেতা, রাজনীতিবিদ, আইনজীবী ও সমাজ সংস্কারক ছিলেন । তিনি “ঠাকুর পঞ্চানন”, “পঞ্চানন সরকার” ও “রায়সাহেব” নামেও পরিচিত ছিলেন। রাজবংশী সমাজে ব্রাহ্মণ্য মূল্যবোধ ও রীতিনীতি পুনর্জাগরণের লক্ষ্যে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ক্ষত্রিয় সভা।এই সংগঠনের মাধ্যমে তিনি রাজবংশী সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে আত্মপরিচয় ও অধিকার আদায়ে নেতৃত্ব দেন। তাঁর জীবন ও কর্ম উত্তরবঙ্গের রাজবংশী সমাজসহ দেশের অসহায় জনগোষ্ঠীর প্রেরণার উৎস হয়ে আছে।