
বর্তমানে যশোর জেলা জুড়ে বইছে শারদীয় দুর্গাপূজার উৎসবের আমেজ। জেলার ছোট-বড় মিলিয়ে ৭০৮টি পূজা মণ্ডপে চলছে নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও উৎসবের প্রস্তুতি। এ বছর দেবী দুর্গা এসেছেন নৌকায়, যা ফসলের প্রাচুর্য বহন করে বলে বিশ্বাস করা হয়।
প্রধান মণ্ডপগুলোতে ভক্তদের ঢল
শহরের প্রাণকেন্দ্রের মণ্ডপগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে যশোর রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের পূজা জেলার অন্যতম আকর্ষণ। মহা অষ্টমীর দিনে এখানে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিপুল সংখ্যক ভক্ত সমবেত হন বিশ্বশান্তি কামনায়। পাশাপাশি, শহরের অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী মণ্ডপগুলোও নানা রঙের আলোকসজ্জা ও দৃষ্টিনন্দন প্রতিমায় সেজে উঠেছে। ঢাকের বাদ্যি আর উলুধ্বনিতে মুখরিত প্রতিটি পূজা প্রাঙ্গণ।
নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা
উৎসবকে নির্বিঘ্ন রাখতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। পূজা মণ্ডপগুলোতে পাঁচ স্তরের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। পুলিশ ও আনসার বাহিনীর পাশাপাশি মণ্ডপ কমিটির নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকরাও কাজ করছেন। জেলা পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, কোনো ধরনের অপপ্রচার বা গুজব ছড়ালে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কষ্টের মধ্যেও উৎসবের চেষ্টা
যদিও উৎসবের মূল সুরটি আনন্দের, তবুও জেলার কিছু এলাকায় কিছুটা বিষাদের ছায়া পড়েছে। অভয়নগর উপজেলার বাড়েধাপাড়া এলাকায় জলাবদ্ধতা ও অর্থকষ্টের কারণে অনেকেই মনের মতো করে পূজা উদযাপন করতে পারছেন না। তবে স্থানীয় যুব সমাজ ও কমিটির সদস্যরা সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।
দুর্গাপূজা কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের মিলনমেলা। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে গোটা যশোর এখন আনন্দ আর ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ।
Taousi Khan 



















