অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম বাংলাদেশি ভিসি দায়িত্বে অধ্যাপক ড. অমিত চাকমা

বিশ্বশিক্ষা অঙ্গনে বাংলাদেশের জন্য এক গৌরবময় অধ্যায় রচনা করেছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. অমিত চাকমা (Professor Dr. Amit Chakma)। ২০২০ সালের জুলাই মাসে তিনি অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় University of Western Australia-এর উপাচার্য (Vice-Chancellor) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর মাধ্যমে তিনি অস্ট্রেলিয়ার কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী প্রথম বাংলাদেশী।
বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলাতে জন্মগ্রহণ করা অধ্যাপক ড. অমিত চাকমার শৈশব কেটেছে সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেই। তবে ছোটবেলা থেকেই মেধা, অধ্যবসায় ও শিক্ষার প্রতি গভীর আগ্রহ তাঁকে আলাদা করে তোলে। স্থানীয় পর্যায়ে প্রাথমিক শিক্ষা শেষে তিনি কুমিল্লা ও ঢাকায় উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন এবং পরবর্তীতে স্বনামধন্য ঢাকা কলেজ (Dhaka College) এ অধ্যয়ন করেন।
উচ্চশিক্ষার লক্ষ্যে তিনি বিদেশে পাড়ি জমান এবং আলজেরিয়ার একটি পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউট থেকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন, যেখানে তিনি কৃতিত্বের সাথে শীর্ষস্থান অধিকার করেন। পরবর্তীতে তিনি কানাডার প্রখ্যাত University of British Columbia থেকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স ও পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেন, যা তাঁর গবেষণা ও একাডেমিক ক্যারিয়ারের ভিত্তি সুদৃঢ় করে।
অস্ট্রেলিয়ায় দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে তিনি কানাডার University of Western Ontario-এর ১০ম প্রেসিডেন্ট ও উপাচার্য হিসেবে ২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও University of Waterloo-এর প্রোভোস্ট এবং University of Regina-এর ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছেন।
গবেষণাক্ষেত্রে অধ্যাপক ড. অমিত চাকমার অবদান আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। তাঁর গবেষণা মূলত মাস ট্রান্সফার, গ্যাস সেপারেশন এবং পেট্রোলিয়াম বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে। পাশাপাশি শক্তি ও পরিবেশ ব্যবস্থার মডেল তৈরী এবং গ্রিনহাউস গ্যাস নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তিতেও তিনি উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। তাঁর প্রকাশিত গবেষণাগুলো বাস্তবভিত্তিক সমাধান প্রদান করে এবং বৈশ্বিক গবেষণা অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় নেতৃত্বে আসার বিষয়ে তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষা সমাজ পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী মাধ্যম। ডিন, ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁকে নীতি নির্ধারণ, গবেষণাকে এগিয়ে নেওয়া এবং শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরী করতে সহায়তা করেছে।
নিজের সাফল্যের বিষয়ে বিনয় প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আপনারা আমাকে দেশের কৃতি সন্তান বলছেন; কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, আপনারা সবাই অনেক মেধাবী।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, জীবনের প্রতিটি কাজে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দেওয়াই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
অধ্যাপক ড. অমিত চাকমার এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা আরও উঁচুতে নিয়ে গেছে। তাঁর এই অনন্য যাত্রা দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য এক শক্তিশালী অনুপ্রেরণা হিসেবে বিবেচিত হবে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন