আমতলীতে শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণে অনিয়মের অভিযোগ

বরগুনার আমতলীতে নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষায় অকৃতকার্য ৩১ জন এসএসসি পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে অন্য একটি বিদ্যালয়ের নামে ফরম পূরণের অভিযোগ উঠেছে এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা।
জানা গেছে, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে আমতলী সরকারি আরমান খোরশেদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী গত বছরের অক্টোবর মাসে নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এতে ৩১ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের ফরম পূরণ না করার কথা থাকলেও অভিযোগ রয়েছে, প্রধান শিক্ষক মো. বজলুর রহমান ফরম পূরণের আশ্বাস দিয়ে প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা আদায় করেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে প্রবেশপত্র (এডমিট কার্ড) সংগ্রহ করতে গেলে তাদের কাছ থেকে আরও এক হাজার টাকা করে নেওয়া হয়। পরে প্রবেশপত্র হাতে পেয়ে তারা দেখতে পান, তাদের ফরম পূরণ ও নিবন্ধন করা হয়েছে ‘পাতাকাটা নুরুল হক মাধ্যমিক বিদ্যালয়’-এর নামে। এতে শিক্ষার্থীরা বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন।
অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করলে প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং তাদের বিদ্যালয় থেকে বের করে দেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী তামান্নার বাবা হানিফ হাওলাদার বলেন,
“আমার মেয়ে ফেল করার পর ফরম পূরণের কথা বলে ৮ হাজার ৫০০ টাকা নিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। পরে প্রবেশপত্র আনতে গিয়ে আরও টাকা দিতে হয়েছে। পরে জানতে পারি অন্য বিদ্যালয়ের নামে ফরম পূরণ করা হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”
পরীক্ষার্থী জিদান ও মোসা. লিজা অভিযোগ করে বলেন,
“ফরম পূরণের নামে টাকা নেওয়া হয়েছে, প্রবেশপত্র নিতে গিয়েও আবার টাকা দিতে হয়েছে। প্রতিবাদ করলে আমাদের অপমান করে বের করে দেওয়া হয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।”
এ বিষয়ে পাতাকাটা নুরুল হক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাওলানা আব্দুল গাফফার বলেন,
“৩১ জন শিক্ষার্থীর নিবন্ধন ও ফরম পূরণের বিষয়ে আমি অবগত নই। শুধু একটি স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষক বলতে পারবেন।”
অভিযোগের বিষয়ে আমতলী সরকারি আরমান খোরশেদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. বজলুর রহমান ৫ হাজার টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন,
“ফেল করা শিক্ষার্থীদের একটি বছর নষ্ট হয়ে যেত, তাই অন্য বিদ্যালয় থেকে ফরম পূরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।”
তবে প্রবেশপত্র দেওয়ার সময় অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।
এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন,
“প্রধান শিক্ষক যদি এমন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকেন, তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী নিযুক্ত হয়েছেন, ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার

প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী হিসেবে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা পেয়েছেন ঝালকাঠির