কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম ও হাম উপসর্গ নিয়ে ভর্তি ৭৫ শতাংশ শিশুর হাম ও রুবেলার টীকা নেয়া হয়নি। চলতি বছরের শুরু থেকে গতকাল ১৩ এপ্রিল র্পর্যন্ত হসপাতালে ভর্তি হওয়া ২২৭ জনের মধ্যে ১৭২ জনই (মিজেলস্ রুবেলা ভ্যাকসিন) এমআর টীকা নেয় নি বা নিতে পারে নি।
হাসপাতালটির শিশু বিভাগের প্রধান মিয়া মনজুর আহমেদ জানান, আমরা শিশু রোগীদের যে হিস্ট্রি রাখছি তা পর্যালোচনা করে জানা গেছে, এ বছর যে ২২৭ জন আমাদের এখানে ভর্তি হয়েছে এর মধ্যে ৭৫% টীকার আওতায় আসেনি। এখন যারা টীকা নিবেন তাদেরকে অবশ্যই আক্রান্ত হবার ২৮ দিন পর টীকা নিতে হবে- এই বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। এজন্য যে কোন ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।
তিনি জানান, গত ২৪ ঘন্টায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন ২২ জন হাম আক্রান্ত শিশু ভর্তি হয়েছেন।
কুমিল্লায় হাম আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি শিশুর সংখ্যা ১শ ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে ৭৭ জনই ভর্তি আছেন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে। বাকিরা বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও অন্যান্য হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য মতে, হাম ও হাম উপসর্গ নিয়ে কুমিল্লা জেলায় মোট ২৮৩ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন, যার মধ্যে ১৭৮ জন ভালো হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। বর্তমানে ১০৫ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। সরকারি হিসাবে, এবছর কুমিল্লায় হাম সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা ৫৯২ জন এবং ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন আলী নূর মোহাম্মদ বশির আহমেদ জানান, কুমিল্লা জেলায় ২০ এপ্রিল থেকে টীকা দেয়ার ক্যাম্পেইন শুরু হবে। আমাদেরও হামের টীকার সঙ্কট নেই। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন ও লাকসাম পৌরসভা আলাদা ব্যবস্থাপনায় হলেও একই সময়ে টীকা প্রদান শুরু করবে।




