কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় সড়কের পাশেই পোল্ট্রি বর্জ্য, ভোগান্তিতে যাত্রী ও স্থানীয়রা

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের বেজুরা এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা তিনটি পোল্ট্রি ফার্মের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ব্রাহ্মণপাড়া-দুলালপুর-গোপালনগর সড়কের পাশে অবস্থিত এসব খামার থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধে পথচারী ও যানবাহনের যাত্রীদেরও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। স্থানীয়রা দ্রুত এ সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেজুরা এলাকার বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম ওই এলাকায় তিনটি পোল্ট্রি ফার্ম পরিচালনা করছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি খামারের বিষ্ঠা নিয়মিত পরিষ্কার না করে তা খামারের নিচের পুকুরের মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করছেন। পাশাপাশি খামারের মৃত মুরগি ও বিভিন্ন বর্জ্য নিয়মিত পাশের খালে ফেলছেন বলে খালের পানি দূষিত হয়ে পড়েছে। এতে খালের মাছ মরে ভেসে উঠছে এবং আশপাশের এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সড়কের পাশের খাল ও খামারের আশপাশ এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ বিরাজ করছে। খামারের বর্জ্যে খালের পানির রং কালচে হয়ে গেছে এবং পানির ওপর মৃত মাছ ভাসতে দেখা গেছে। পথচারী ও স্থানীয়রা পোল্ট্রি ফার্মের পাশ দিয়ে চলাচলের সময় নাক-মুখ ঢেকে চলাচল করছেন। এতেও যেন তারা নিস্তার পাচ্ছেন না।
স্থানীয় বাসিন্দা সাদেক মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা এই দুর্গন্ধের মধ্যে বসবাস করছি। ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ রেখেও রেহাই পাচ্ছি না। বিশেষ করে রাতে দুর্গন্ধ আরও বেড়ে যায়। এতে আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হয়ে পড়েছে। আমাদের বাড়ির শিশুরা তীব্র দুর্গন্ধে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। আমরা শীঘ্রই এর স্থায়ী প্রতিকার চাই।
আরেক বাসিন্দা গৃহিণী পারভীন আক্তার বলেন, পোল্ট্রি ফার্মগুলোর দুর্গন্ধে আমরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। আমাদের ছোট ছোট বাচ্চারা প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ছে। পোল্ট্রি ফার্মগুলো এতটাই দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে যে বাড়ি ঘরে থাকার মতো অবস্থা নেই। আমরা অনেক কষ্ট ভোগ করছি তবুও কোনো সমাধান পাচ্ছি না।
সড়কে চলাচলকারী গাড়ি অটোরিকশা চালক মো. আবদুল কুদ্দুস বলেন, এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করা খুব কষ্টকর হয়ে গেছে। পোল্ট্রি ফার্মগুলোর সামনে আসলেই তীব্র দুর্গন্ধে শ্বাস বন্ধ হয়ে আসে। গাড়িতে থাকা যাত্রীদের নাক চেপে বসে থাকতে হয়। নাক চেপেও দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় না। অনেক সময় যাত্রীরা অভিযোগ করেন, কিন্তু আমাদের কিছু করার থাকে না।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত খামার মালিক শরিফুল ইসলাম বলেন, খামারগুলো আমি যতটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করছি।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক অরূপ সিংহ বলেন, পোল্ট্রি খামারের বিষ্ঠা নিয়মানুযায়ী পরিষ্কার না করা হলে এসব বিষ্ঠা পচে গিয়ে পরিবেশ দূষণে সহায়তা করে এবং আশপাশের বাতাসে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ায়। এতে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। পরিবেশ দূষণের ফলে বিশেষ করে শিশুরা বেশি স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকে।
এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারেক রহমান বলেন, আমি বেশ কিছু অভিযোগ পেয়েছি এ তিনটি পোল্টি ফার্মের বিরুদ্ধে। খুব শিগগিরই এগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও তিনি জানান।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন