গাজীপুরে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন উদ্বোধন

গাজীপুরে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬-এর উদ্বোধনের মাধ্যমে শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ব্যাপক কর্মসূচি শুরু হয়েছে। নগরীর জয়দেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ শওকত হোসেন সরকার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্যাম্পেইনের শুভ উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সোহেল হাসান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত সচিব মুহাম্মদ সানিউল কাদের, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুদীপ বসাক, সিভিল সার্জন ডা. মোঃ মামুঈনুর রহমানসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধিবৃন্দ, শিক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মীরা।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, ‘হাম-রুবেলা একটি মারাত্মক সংক্রামক রোগ, যা প্রতিরোধে টিকাদানই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। প্রতিটি শিশুকে টিকার আওতায় আনা গেলে আমরা একটি সুস্থ ও নিরাপদ প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারব।’
সভাপতির বক্তব্যে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘সিটি কর্পোরেশন ও স্বাস্থ্য বিভাগ সমন্বিতভাবে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে টিকাদান কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।’
এদিকে একই দিনে মহানগরের দক্ষিণ সালনা এলাকার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজেও হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের আরেকটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী এম মনজুরু করিম রনি। সভাপতিত্ব করেন গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোঃ মামুনুর রহমান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ নুরুল করিম ভূঁইয়া, পুলিশ সুপার মোঃ শরিফ উদ্দিন, বিএনপি নেতা মীর হালিমুজ্জামান ননী,এডভোকেট মেহেদী হাসান এলিছ, ভিপি জয়নাল আবেদীন তালুকদারসহ রাজনৈতিক ও প্রশাসনের অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, হাম-রুবেলা একটি ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ, যা হাঁচি-কাশির মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীর জন্য এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ গর্ভের প্রথম তিন মাসে আক্রান্ত হলে অনাগত শিশুর গুরুতর জটিলতা, এমনকি গর্ভপাতের ঝুঁকি থাকে।
দেশব্যাপী হাম রোগের প্রাদুর্ভাবের প্রেক্ষাপটে ২০ এপ্রিল থেকে ২০ মে পর্যন্ত ১৪ কর্মদিবসব্যাপী এই ক্যাম্পেইন পরিচালিত হচ্ছে। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৫৭টি ওয়ার্ডে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে এক ডোজ হাম-রুবেলা টিকা প্রদান করা হবে।
সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন অঞ্চলগুলোতে ৫টি স্থায়ী কেন্দ্র, ১২৪টি অস্থায়ী কেন্দ্র এবং ৫টি মপ-আপ টিম কাজ করছে। কর্মজীবী মায়েদের শিশুদের জন্য বিশেষ সান্ধ্যকালীন টিকাদান ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এ কার্যক্রমের আওতায় সিটি কর্পোরেশনের ৫টি অঞ্চলে মোট ১ লাখ ৭৬ হাজার ১৩১ জন শিশুকে টিকা দেওয়া হবে। অপরদিকে কোনাবাড়ি, কাশিমপুর ও কাউলতিয়া এলাকায় আরও ৮১ হাজার ৭৭১ জন শিশুকে সিভিল সার্জনের তত্ত্বাবধানে টিকা প্রদান করা হবে।
স্বাস্থ্য বিভাগ ও সিটি কর্পোরেশন যৌথভাবে সকল অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে-নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টার মধ্যে শিশুদের টিকা নিশ্চিত করে হাম-রুবেলা মুক্ত গাজীপুর গড়ে তুলতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

লালমনিরহাটে মানবিক কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার অঙ্গীকার: নতুন কমিটির মমিনুল, লায়লা ও রোজি

​বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, লালমনিরহাট ইউনিটের কার্যনির্বাহী কমিটি (২০২৫–২০২৭)-এর নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। নবনির্বাচিত এ কমিটিতে চেয়ারম্যান পদে এ কে এম মমিনুল হক, ভাইস চেয়ারম্যান পদে লায়লা হাবিব এবং সেক্রেটারি পদে অ্যাডভোকেট জিন্নাত ফেরদৌস আরা রোজি নির্বাচিত হয়েছেন।   ​এছাড়া কমিটিতে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেছেন-আফজাল হোসেন, মজমুল হোসেন প্রামানিক, আবুল বাশার, আজিজুল ইসলাম ইউলাদ, হ.শ.ম জয়নুল আবেদীন স্বপন, রোকনুজ্জামান রোকন, এবি.এম ফেরদৌস এবং সাহেদুল ইসলাম পাটোয়ারী।   ​দায়িত্ব গ্রহণের পর এক প্রতিক্রিয়ায় নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান এ কে এম মমিনুল হক বলেন, “রেড ক্রিসেন্ট একটি আন্তর্জাতিক মানবিক প্রতিষ্ঠান। লালমনিরহাটের প্রান্তিক, দুস্থ ও অসহায় মানুষের প্রতিটি সংকটে পাশে দাঁড়ানোই হবে আমাদের নতুন কমিটির প্রধান অগ্রাধিকার। আমরা আগামী দিনগুলোতে জেলার দুর্যোগকালীন জরুরি সহায়তা জোরদার করা, বিনামূল্যে রক্তদান কর্মসূচি বিস্তৃত করা এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করব। তরুণ ও যুবদের স্বেচ্ছাসেবী কাজে উৎসাহিত করে লালমনিরহাটে রেড ক্রিসেন্টের প্রতিটি কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ, গতিশীল ও গণমুখী করতে আমরা বদ্ধপরিকর।”   ​সংগঠনকে সুসংগঠিত ও নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির প্রত্যয় ব্যক্ত করে নবনির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান লায়লা হাবিব বলেন, “রেড ক্রিসেন্টের সেবা কার্যক্রমকে প্রতিটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দ্বারে পৌঁছে দিতে আমরা দলমত নির্বিশেষে কাজ করতে চাই। বিশেষ করে যেকোনো দুর্যোগে নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিতে এবং নারী স্বেচ্ছাসেবক তৈরিতে আমাদের বিশেষ দৃষ্টি থাকবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় লালমনিরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটকে একটি আদর্শ মানবিক সেবাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।”   ​কার্যক্রম আরও ত্বরান্বিত ও কার্যকর করার অঙ্গীকার জানিয়ে নবনির্বাচিত সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট জিন্নাত ফেরদৌস আরা রোজি বলেন, “আমাদের মূল শক্তি হলো তরুণ ও যুব স্বেচ্ছাসেবীরা। প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টির মাধ্যমে তরুণ সমাজকে মানবসেবায় যুক্ত করা হবে। শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে প্রতিটি মানবিক প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়নে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাব। যেকোনো সংকটে লালমনিরহাটের মানুষের বিশ্বস্ত আশ্রয়স্থল হিসেবে রেড ক্রিসেন্ট কাজ করে যাবে।”