‎চিলমারীতে শিশু আয়শা হত্যা: এক সপ্তাহ পেরোলেও অগ্রগতি নেই, ন্যায়বিচারের দাবিতে ফুঁসছে জনতা

‎কুড়িগ্রামের চিলমারীতে দুই বছর বয়সী নিষ্পাপ শিশু আয়শার নির্মম মৃত্যু এখন শুধু একটি পরিবারের শোকগাথা নয় এটি পুরো এলাকার মানুষের বেদনা, ক্ষোভ ও বিবেকের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ১৭ এপ্রিল হঠাৎ নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাড়ির পাশ থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকেই পরিবার ও স্থানীয়দের দৃঢ় দাবি এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বরং একটি পরিকল্পিত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড।

‎নিহত শিশু আয়শা ওই এলাকার আলমগীর হোসেনের আদরের কন্যা। কিন্তু ঘটনার এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে পরিবারসহ পুরো এলাকাজুড়ে। প্রশাসনের নীরবতা যেন শোকাহত মানুষদের ক্ষতকে আরও গভীর করে তুলছে।

‎এই প্রেক্ষাপটে আজ (২৭ এপ্রিল) ন্যায়বিচারের দাবিতে সাধারণ মানুষের উদ্যোগে চিলমারীতে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মাচাবান্দা এলাকা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে চিলমারী মডেল থানার সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে অংশগ্রহণকারীরা থানার সামনে অবস্থান নিয়ে খুনিকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান।

‎মানববন্ধনে নারী-পুরুষ, তরুণ-প্রবীণসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। শোক আর ক্ষোভ মিলেমিশে যেন এক প্রতিবাদী জোয়ারে রূপ নেয়। “খুনির ফাঁসি চাই”, “আয়শা হত্যার বিচার চাই” এমন স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে চারপাশ।

‎মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মইনুল ইসলাম মানিক বলেন,
‎“একটি নিষ্পাপ শিশুকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা আমাদের মানবিকতা ও বিবেককে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা চাই দ্রুত খুনিকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ আর এ ধরনের জঘন্য অপরাধ করার সাহস না পায়।”

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, এত স্পর্শকাতর একটি ঘটনার পরও তদন্তের ধীরগতি ও তথ্যের অভাব জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। তারা অবিলম্বে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন