নড়াইলে নিলু খানের তত্বাবধায়নে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের একাধিক ঝটিকা মিছিল | কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস ওসির

​প্রশাসনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ভিন্ন ভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ ঘোষিত দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ নিজাম উদ্দিন খান নিলুর তত্বাবধায়নে একাধিক ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রবিবার (১৭ মে) বিকেলে উপজেলার যশোর-কালনা মহাসড়কের কালনা এলাকায় এই কর্মসূচি পালন করা হয়। অপর একটি দল লোহাগড়া শহর অভ্যন্তরের যেকোন সড়কে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা এখনো নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।
​৫ আগস্ট (২০২৪) আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর কঠোর আইনি নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও একাধিকবার এই মিছিলের ঘটনা ঘটে।
​বিক্ষোভ মিছিলে ব্যবহৃত ব্যানারে লেখা ছিল— “জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার ১৭ মে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে তেল, বিদ্যুৎ, গ্যাস সংকট ও হামের টিকাদানের অব্যবস্থাপনা এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের অপচেষ্টার প্রতিবাদ এবং ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা ও রাজবন্দীদের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ।”
​ব্যানারে আয়োজক হিসেবে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন খান নিলুর নাম ও ছবি ছিল। মিছিলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী অংশ নেন।
​স্থানীয় সূত্র জানায়, বিগত ২৪ এর ৫ আগস্টের পর থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ নিজাম উদ্দিন খান নিলুর তত্ত্বাবধানে নড়াইল জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে প্রকাশ্যেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দিবস উপলক্ষে ঝটিকা মিছিল, লিফলেট ও খাবার বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দলটির এমন তৎপরতায় স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সাথে এই ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নেতিবাচক মনোভাবের সৃষ্টি হয়েছে। তারা আওয়ামী লীগের এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন।
​নিষিদ্ধ সংগঠনের এই বিক্ষোভ মিছিলের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সংবাদকর্মীদের বলেন:
​”নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিলের একটি ভিডিও আমি দেখেছি। তবে ভিডিওটি দেখে মনে হচ্ছে এটি আমাদের থানা এলাকার মধ্যে নয়। তারপরেও বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। পরবর্তীতে এই ধরনের কোনো চেষ্টা বা আইনবিরোধী কাজ হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
​পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন