নরসিংদী বাবুর হাটে ঈদের বেচা কেনা জমে উঠেছে

নরসিংদী বাবুর হাটে ঈদের বেচা কেনা জমে উঠেছে। দেশের সর্ববৃহৎ পাইকারি কাপড়ের হাট নরসিংদীর বাবুরহাট “প্রাচ্যের ম্যানচেস্টার ” হিসেবে পরিচিত। ঈদকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্রেতাদের ভিড়ে জমজমাট এখন বাবুর হাট। বাবুর হাটের অলিগলি  জুড়ে দোকানে  দোকানে ক্রেতাদের ব্যাপক ভীড় লক্ষ্য করা যায় । সব মানুষ বেচা কেনায় ব্যস্ত, তাদের যেন দম ফেলার সময় নেই। গামছা, শাড়ি, লুঙ্গি, থ্রি -পিজ, শার্ট পিজ, প্যান্ট পিজ, পাঞ্জাবির কাপড়, থান কাপড়, বিছানা ছাদর সহ দেশীয় সব ধরনের কাপড় পাওয়া যায় বাবুর হাটে। নরসিংদী ও আশেপাশের জেলাগুলোতে তৈরিকৃত সব ধরনের দেশীয় কাপড়  বাবুর হাটে  বিক্রি  হয়। দেশের মোট কাপড়ের  প্রায় ৭০ শতাংশ  কাপড়ের চাহিদা বাবুর হাট থেকে মিটিয়ে থাকে।
বাবুরহাটের অলিগলি জুড়ে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা পাইকারি ক্রেতাদের ব্যাপক ভিড়। ক্রেতারা  এ দোকান সে দোকান ঘুরে পছন্দ মতো শাড়ি, লুঙ্গি , থ্রি পিস সহ নানা ধরনের নিত্য নতুন ডিজাইনের সব কাপড় কিনছেন। আবার ব্যক্তি পর্যায়েও অনেকেই পরিবারের সদস্য  ও স্বজনদের উপহার দিতে বাবুর হাট এসে কাপড় কিনছেন। কিছু কিছু ছোট পাইকারকে দেখা যায়  নিজের কাপড়ের গাট মাথায়, গাধে, হাতে বহন করে নিয়ে যাচ্ছেন। যাদের কাপড়ের গাট বড় তারা কুলি বা ভ্যানের সাহায্যে  ঢাকা – সিলেট মহাসড়কে নিয়ে ট্রাক, লরি ও পিক-আপ ভ্যানে তুলে নিয়ে যান। আবার অনেক ক্রেতা কাপড় কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে নিজ এলাকায় পাঠাচ্ছেন। সব মিলিয়ে হাটের দিনগুলোতে প্রতিদিন অন্তত চার – পাঁচশত ট্রাক কাপড় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে  যাচ্ছে।
হাটের ব্যবসায়ীদের সাথে আলাপ করে জানা যায় , সারা বছরের মধ্যে পূজা ও রোজার ঈদের সময়টাতে  দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্রেতারা বেশি সংখ্যায় পাইকারি দামে কাপড় কিনতে বাবুর হাটে আসেন। দেশের অন্যান্য হাটের তুলনায় যোগাযোগ ব্যবস্হা হাটের তুলনায়  ভালো ও সব ধরনের দেশীয় কাপড় কম দামে পাওয়া যায়। বাবুর হাটে পাইকারি ক্রেতাদের পাশাপাশি খুরচা  ক্রেতারাও কাপড় কিনতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। তবে এ বছর হাটে  প্রত্যাশা অনুযায়ী পাইকারি ক্রেতা অন্য বছরের তুলনায় কম।
শিক্ষক শীলা রানী শাখারী জানান, আমি বাবুর হাট থেকে জামা কাপড় কিনে স্বচ্ছন্দবোধ করি। এখানে পাইকারী ও খুরচা সুলভ মূল্যে কেনা কাটা করা যায়। পূজা, বিয়ে, জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী সহ সব ধরনে কেনা আমি ও আমার পরিবার বাবুর হাট থেকে করে থাকি।
নরসিংদী চেম্বার অব কর্মাস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের তথ্য মতে, জেলায় ছোট বড় প্রায় তিন হাজার শিল্প কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে পাওয়ার লুম, বৈদ্যুতিক তাঁত, টেক্সটাইল,  ডাইং ( সুতা ও কাপড় রং করা) কারখানাই বেশী। এ সব কারখানায় কাজ করেন প্রায় দুই লাখ শ্রমিক। পাওয়ার লুমগুলোতে দিন রাত খটখট শব্দে সুতা থেকে তৈরি হয় গ্রে কাপড়। এই গ্রে কাপড় বিভিন্ন কারখানায় ডাইং কারখানায় পছন্দ অনুযায়ী রং করা হয়।
ব্যবসায়ী শাকিল  জানান, বাবুর হাটে তিনি একজন নিয়মিত পাইকার। রুমাল থেকে শুরু করে কাফনের পর্যন্ত সব ধরনের কাপড় বাবুর হাটে পাওয়া যায়। আগে  এক সপ্তাহ পর পর  শাড়ি, লুঙ্গি, থ্রি পিস সহ বিভিন্ন ধরনের কাপড় কিনতে বাবুর হাট আসতেন। বেচা কেনা কম থাকায়  এ বছর হাটে কম আসা হয়।
বাবুর হাট বনিক সমিতির সভাপতি মো. বোরহান উদ্দিন জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর বেচা কেনা ভালো । উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় কাপড়ের দাম বেড়েছে।
ঈদকে সামনে রেখে শেষ পর্যায়ে এসে বাবুর হাটে বেচা কেনা বেড়েছে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

লালমনিরহাটে মানবিক কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার অঙ্গীকার: নতুন কমিটির মমিনুল, লায়লা ও রোজি

​বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, লালমনিরহাট ইউনিটের কার্যনির্বাহী কমিটি (২০২৫–২০২৭)-এর নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। নবনির্বাচিত এ কমিটিতে চেয়ারম্যান পদে এ কে এম মমিনুল হক, ভাইস চেয়ারম্যান পদে লায়লা হাবিব এবং সেক্রেটারি পদে অ্যাডভোকেট জিন্নাত ফেরদৌস আরা রোজি নির্বাচিত হয়েছেন।   ​এছাড়া কমিটিতে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেছেন-আফজাল হোসেন, মজমুল হোসেন প্রামানিক, আবুল বাশার, আজিজুল ইসলাম ইউলাদ, হ.শ.ম জয়নুল আবেদীন স্বপন, রোকনুজ্জামান রোকন, এবি.এম ফেরদৌস এবং সাহেদুল ইসলাম পাটোয়ারী।   ​দায়িত্ব গ্রহণের পর এক প্রতিক্রিয়ায় নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান এ কে এম মমিনুল হক বলেন, “রেড ক্রিসেন্ট একটি আন্তর্জাতিক মানবিক প্রতিষ্ঠান। লালমনিরহাটের প্রান্তিক, দুস্থ ও অসহায় মানুষের প্রতিটি সংকটে পাশে দাঁড়ানোই হবে আমাদের নতুন কমিটির প্রধান অগ্রাধিকার। আমরা আগামী দিনগুলোতে জেলার দুর্যোগকালীন জরুরি সহায়তা জোরদার করা, বিনামূল্যে রক্তদান কর্মসূচি বিস্তৃত করা এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করব। তরুণ ও যুবদের স্বেচ্ছাসেবী কাজে উৎসাহিত করে লালমনিরহাটে রেড ক্রিসেন্টের প্রতিটি কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ, গতিশীল ও গণমুখী করতে আমরা বদ্ধপরিকর।”   ​সংগঠনকে সুসংগঠিত ও নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির প্রত্যয় ব্যক্ত করে নবনির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান লায়লা হাবিব বলেন, “রেড ক্রিসেন্টের সেবা কার্যক্রমকে প্রতিটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দ্বারে পৌঁছে দিতে আমরা দলমত নির্বিশেষে কাজ করতে চাই। বিশেষ করে যেকোনো দুর্যোগে নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিতে এবং নারী স্বেচ্ছাসেবক তৈরিতে আমাদের বিশেষ দৃষ্টি থাকবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় লালমনিরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটকে একটি আদর্শ মানবিক সেবাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।”   ​কার্যক্রম আরও ত্বরান্বিত ও কার্যকর করার অঙ্গীকার জানিয়ে নবনির্বাচিত সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট জিন্নাত ফেরদৌস আরা রোজি বলেন, “আমাদের মূল শক্তি হলো তরুণ ও যুব স্বেচ্ছাসেবীরা। প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টির মাধ্যমে তরুণ সমাজকে মানবসেবায় যুক্ত করা হবে। শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে প্রতিটি মানবিক প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়নে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাব। যেকোনো সংকটে লালমনিরহাটের মানুষের বিশ্বস্ত আশ্রয়স্থল হিসেবে রেড ক্রিসেন্ট কাজ করে যাবে।”