পলাশ ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু

নরসিংদীর পলাশে ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া ঝুঁকি মোকাবিলা, মশার বংশবিস্তার রোধে পারিচ্ছনতা অভিযান শুরু হয়েছে। পলাশ উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার আয়োজনে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক অভিযান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উপজেলা ও পৌরসভার বিভিন্ন সড়ক, বাজার, ড্রেন ও জনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে  এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। শনিবার  পলাশ উপজেলা প্রাঙ্গণে এ অভিযান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
মশক নিধন স্প্রে করে কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইশতিয়াক আহমেদ। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল শহর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আলম মোল্লা সহ স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে সড়ক পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরাও অংশ নেন।

‎এ সময় বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া থেকে রক্ষা পেতে সবাইকে বাসাবাড়ি এবং আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের  নির্দেশনার আলোকে নরসিংদীর পলাশ উপজেলাকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও স্থানীয় পর্যায়ে সক্রিয় অংশগ্রহণই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আমাদের সবাইকে মিলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে গৃহস্থালি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে।
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাব থেকে রক্ষা পেতে জনগণকে সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সপ্তাহে অন্তত একবার বাড়ি এবং আশেপাশের এলাকায় পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি।
‘টব, ড্রাম, বালতি, পরিত্যক্ত টায়ার, ডোবা বা বাড়ি ও ছাদে পানি জমতে দেওয়া যাবে না। পানির ট্যাঙ্ক অবশ্যই ঢেকে রাখতে হবে।প্রতিসপ্তাহে অন্তত একবার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করুন। ’
বক্তারা আরও বলেন  ‘যদি আমরা সবাই সচেতন হই, তাহলে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া থেকে নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব। বর্ষাকালে জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননের জন্য উপযুক্ত। মাত্র তিন দিন পানি জমলেই মশা জন্ম নিতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই নির্দেশনা পাওয়ার পর পরই পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি শুরু করেন স্থানীয় প্রশাসন,  পৌরসভা, বিএনপির ও অঙ্গ সংগঠনের  নেতাকর্মীরা।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

লালমনিরহাটে মানবিক কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার অঙ্গীকার: নতুন কমিটির মমিনুল, লায়লা ও রোজি

​বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, লালমনিরহাট ইউনিটের কার্যনির্বাহী কমিটি (২০২৫–২০২৭)-এর নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। নবনির্বাচিত এ কমিটিতে চেয়ারম্যান পদে এ কে এম মমিনুল হক, ভাইস চেয়ারম্যান পদে লায়লা হাবিব এবং সেক্রেটারি পদে অ্যাডভোকেট জিন্নাত ফেরদৌস আরা রোজি নির্বাচিত হয়েছেন।   ​এছাড়া কমিটিতে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেছেন-আফজাল হোসেন, মজমুল হোসেন প্রামানিক, আবুল বাশার, আজিজুল ইসলাম ইউলাদ, হ.শ.ম জয়নুল আবেদীন স্বপন, রোকনুজ্জামান রোকন, এবি.এম ফেরদৌস এবং সাহেদুল ইসলাম পাটোয়ারী।   ​দায়িত্ব গ্রহণের পর এক প্রতিক্রিয়ায় নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান এ কে এম মমিনুল হক বলেন, “রেড ক্রিসেন্ট একটি আন্তর্জাতিক মানবিক প্রতিষ্ঠান। লালমনিরহাটের প্রান্তিক, দুস্থ ও অসহায় মানুষের প্রতিটি সংকটে পাশে দাঁড়ানোই হবে আমাদের নতুন কমিটির প্রধান অগ্রাধিকার। আমরা আগামী দিনগুলোতে জেলার দুর্যোগকালীন জরুরি সহায়তা জোরদার করা, বিনামূল্যে রক্তদান কর্মসূচি বিস্তৃত করা এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করব। তরুণ ও যুবদের স্বেচ্ছাসেবী কাজে উৎসাহিত করে লালমনিরহাটে রেড ক্রিসেন্টের প্রতিটি কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ, গতিশীল ও গণমুখী করতে আমরা বদ্ধপরিকর।”   ​সংগঠনকে সুসংগঠিত ও নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির প্রত্যয় ব্যক্ত করে নবনির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান লায়লা হাবিব বলেন, “রেড ক্রিসেন্টের সেবা কার্যক্রমকে প্রতিটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দ্বারে পৌঁছে দিতে আমরা দলমত নির্বিশেষে কাজ করতে চাই। বিশেষ করে যেকোনো দুর্যোগে নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিতে এবং নারী স্বেচ্ছাসেবক তৈরিতে আমাদের বিশেষ দৃষ্টি থাকবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় লালমনিরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটকে একটি আদর্শ মানবিক সেবাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।”   ​কার্যক্রম আরও ত্বরান্বিত ও কার্যকর করার অঙ্গীকার জানিয়ে নবনির্বাচিত সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট জিন্নাত ফেরদৌস আরা রোজি বলেন, “আমাদের মূল শক্তি হলো তরুণ ও যুব স্বেচ্ছাসেবীরা। প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টির মাধ্যমে তরুণ সমাজকে মানবসেবায় যুক্ত করা হবে। শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে প্রতিটি মানবিক প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়নে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাব। যেকোনো সংকটে লালমনিরহাটের মানুষের বিশ্বস্ত আশ্রয়স্থল হিসেবে রেড ক্রিসেন্ট কাজ করে যাবে।”