পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালিশুরী ইউনিয়নে একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সরকারি রাস্তা অবৈধভাবে দখল করে দ্বিতলা ভবন ও দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয় জনসাধারণের চলাচলে চরম বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে এবং জরুরি সেবাও ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালিশুরী মৌজার ৪৩নং জে.এল এর ১নং খতিয়ানের ১৪২৪নং দাগভুক্ত এই রাস্তাটি কালিশুরী বন্দরের মাঝখানে সরকারি টিউবওয়েলের দক্ষিণ পাশ থেকে নদী পর্যন্ত বিস্তৃত। কিন্তু বর্তমানে রাস্তাটির বড় একটি অংশ প্রভাবশালী মহলের দখলে চলে গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, মো. কামাল হোসেন নামের এক ব্যক্তি নিজের জমির সাথে লাগোয়া সরকারি রাস্তার প্রায় ৫ ফুট জায়গা দখল করে একটি দ্বিতল ভবন নির্মাণ করেছেন। ভবনের নিচতলায় তার মালিকানাধীন “লাল মিয়া ছাতার দোকান” এবং দ্বিতীয় তলায় একটি এনজিও অফিস ভাড়া দেওয়া হয়েছে। এছাড়া একই এলাকায় মো. বাবুল হোসেন প্রায় ১৩ ফুটের দোকানের মধ্যে ৮ ফুটের বেশি জায়গা সরকারি রাস্তা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন বলে জানা গেছে।
রাস্তার দুই পাশে অবৈধ দখল থাকায় এটি অত্যন্ত সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের চলাচলে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, ২০১২ সালের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সময় সরু রাস্তার কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে প্রবেশ করতে পারেনি। এতে কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং বহু দোকানপাট পুড়ে যায়।
সর্বশেষ গত ১৬ মার্চ দিবাগত রাতেও ওই এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তখনও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশ করতে না পারায় কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়।
এ সড়কটি ইউনিয়ন পরিষদ ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ পথ হওয়ায় এর দখলদারিত্ব জনসেবায় মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
স্থানীয়ভাবে আরও অভিযোগ রয়েছে, কালিশুরী ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা মো. কামাল হোসেন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সরকারি জমি দখলসহ বিভিন্ন অপকর্মের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।
কালিশুরী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দলিল উদ্দিন মোল্লা (ধলু) বলেন, “বন্দরের সহস্রাধিক দোকান ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে এই রাস্তা দখলমুক্ত করা জরুরি। জরুরি সেবার স্বার্থে দ্রুত সীমানা নির্ধারণ করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা উচিত।”
অভিযোগ অস্বীকার করে মো. কামাল হোসেন বলেন, “স্থানীয়ভাবে মাপঝোঁক করে আমাকে জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি আমার নিজস্ব জমিতেই ভবন নির্মাণ করেছি।”
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সোহাগ মিলু বলেন, “‘ক’ তফসিলভুক্ত সরকারি সম্পত্তি কেউ অবৈধভাবে দখল করে থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।”




