দেশজুড়ে গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে প্রশাসনের বিভিন্ন উদ্যোগ চলমান থাকলেও বাস্তবতা বলছে—এ সমস্যার সমাধান এককভাবে সম্ভব নয়। যাত্রী, চালক, মালিক ও প্রশাসন—সবার সম্মিলিত দায়িত্বশীলতা ছাড়া কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
সম্প্রতি এক অভিযানে দেখা যায়, সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া যাচাই করতে গিয়ে প্রশাসনের তৎপরতায় কিছু যাত্রীর অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। এক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমি বেশি ভাড়া দিচ্ছি, এতে আপনার সমস্যা কোথায়? কেন দেরি করানো হচ্ছে?”—এমন প্রতিক্রিয়া পরিস্থিতির জটিলতাকেই স্পষ্ট করে তুলে ধরে।
অভিযান পরিচালনাকারীরা জানান, একজন চালককে থামিয়ে ভাড়া যাচাই করা হলে অনেক সময় অন্য যাত্রীরা বিরক্ত হন এবং সহযোগিতার পরিবর্তে দ্রুত চলে যেতে চান। এতে অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়ে। তারা এ বিষয়ে যাত্রীদের সাময়িক ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “এই উদ্যোগ মানুষের দীর্ঘমেয়াদি স্বস্তির জন্যই নেওয়া হচ্ছে।”
এ বিষয়ে সামাজিক মাধ্যমেও নানা প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সালাম মন্তব্য করেন, “যতদিন পর্যন্ত মানুষ সুশিক্ষিত ও সচেতন না হবে, ততদিন উন্নয়ন বা অনিয়ম-দুর্নীতি থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন। দুর্নীতি যেন সমাজের রক্তে মিশে গেছে।”
অন্যদিকে দিদারুল আলম বলেন, “অতিরিক্ত ভাড়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেও অনেক যাত্রী নিজের মতো ভাড়া দিয়ে চলে যান, পরে আবার সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা করেন। তাই কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি।”
নূর মোহাম্মদ বিষয়টিকে ‘সিস্টেমের সমস্যা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “আইন প্রয়োগ হলে আমরা বিরক্ত হই, আবার অন্যায় হলে চুপ থাকি—এই দ্বিমুখী আচরণ থেকেই সমস্যার সৃষ্টি। সাময়িক অসুবিধা সহ্য না করলে দীর্ঘমেয়াদে স্বস্তি আসবে না।”
এটি শুধুমাত্র ভাড়া সংক্রান্ত সমস্যা নয়; বরং একটি বৃহত্তর সামাজিক সংকট। সচেতনতার অভাব, দায়িত্ববোধের ঘাটতি এবং তাৎক্ষণিক সুবিধার প্রতি ঝোঁক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তারা বলেন, “এটা যেন এক ধরনের ‘চোর-পুলিশ খেলা’, যেখানে প্রত্যেকেই কোনো না কোনোভাবে জড়িত। তাই মৌলিক পরিবর্তনের জন্য সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সঠিক ভূমিকা রাখতে হবে।”
ভোক্তভোগীদের মতে, ছোট ছোট উদ্যোগই বড় পরিবর্তনের পথ তৈরি করে। প্রশাসনের কার্যক্রমের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় সহযোগিতা, সচেতনতা ও অংশগ্রহণই পারে গণপরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে। আপামর জনতার সমন্বিত প্রয়াস ছাড়া ভাড়া নিয়ন্ত্রণ কিংবা সিন্ডিকেট ভাঙা—কোনোটিই টেকসইভাবে সম্ভব নয়।




