রাজশাহীতে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার মনোজ কুমারের বাসভবনে বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের কয়েকজন নেতার গোপন ইফতার ও বৈঠককে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে নানামুখী প্রশ্ন ও আলোচনা শুরু হয়েছে। গত ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের দিন এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর রাজশাহীর সাংবাদিক মহলে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—রাজশাহীতে দীর্ঘ ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী প্রেসক্লাব, সাংবাদিক ইউনিয়ন, ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনসহ সিটি প্রেসক্লাব, মডেল প্রেসক্লাব ও মেট্রো প্রেসক্লাবের মতো একাধিক স্বীকৃত ও সুনামধন্য সাংবাদিক সংগঠন থাকা সত্ত্বেও কেন একটি বিতর্কিত সংগঠনকে নিয়ে এমন গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বরেন্দ্র প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততায় সংগঠনটির কার্যক্রম শুরু হয় বলে স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়। তবে গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সরকারের পতনের পর সংগঠনটির নেতারা নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করে বিএনপিমনা সংগঠন হিসেবে পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। যদিও স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তবে তারা এখনো আওয়ামী লীগের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।
এদিকে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনারের কার্যালয়ের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিমকে প্রতি মাসে ক্লাবের নামে দুই বোতল মদ সরবরাহ করা হয়। এছাড়াও তাকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের অর্থ সহায়তা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ ধরনের অভিযোগ ও গোপন বৈঠক ঘিরে রাজশাহীর সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই জানতে চাইছেন—এই বৈঠক কি শুধুই ব্যক্তিগত নাকি এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে? দেশ ও স্থানীয় পরিস্থিতি নিয়ে কোনো ধরনের গোপন সমঝোতা বা পরিকল্পনা করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করছেন অনেকে।
তবে এ বিষয়ে বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিম কিংবা সংশ্লিষ্টদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে তদন্তের দাবি উঠেছে।



