পটুয়াখালীর বাউফলে মাত্র ১৫০ টাকার দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে অনার্স ফাইনাল পরীক্ষার কেন্দ্র বাতিল করে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন কয়েকশ শিক্ষার্থী ও শিক্ষার্থীনি।
জানা গেছে, বাউফল সরকারি কলেজে দীর্ঘদিন ধরে অনার্স পরীক্ষার কেন্দ্র অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল। পরে ২০১৭ সালে কেন্দ্রটি স্থানান্তর করে উপজেলার কালাইয়া ইদ্রিস মোল্লা ডিগ্রি কলেজে নেয়া হয়। তবে চলতি বছর পরীক্ষার মাত্র ১০ দিন আগে হঠাৎ করে কেন্দ্র পরিবর্তন করে জেলা সদরের পটুয়াখালী করিম মৃধা কলেজে স্থানান্তর করেছে শিক্ষা অধিদপ্তর। নতুন কেন্দ্রটি বাউফল থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কেন্দ্র ফি বাবদ প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৪৫০ টাকা করে আদায় করা হলেও কালাইয়া কেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে দেয়া হয় মাত্র ৩০০ টাকা। বাকি ১৫০ টাকা না পাওয়ায় কেন্দ্র পরিচালনায় অপারগতা জানিয়ে কর্তৃপক্ষ আবেদন করলে শিক্ষা অধিদপ্তর কেন্দ্র স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, এত দূরে গিয়ে পরীক্ষা দিতে হলে সময়, অর্থ ও শারীরিকভাবে চাপে পড়তে হবে। অনেক শিক্ষার্থী বিবাহিত এবং কেউ কেউ গর্ভবতী হওয়ায় তাদের জন্য এ দূরত্ব অতিক্রম করে পরীক্ষা দেওয়া অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়বে।
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জাবের মাহমুদ বলেন, “৩৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে আমাদের প্রায় ২ ঘণ্টা সময় লাগে। দুপুর ১টার পরীক্ষায় অংশ নিতে হলে সকাল থেকেই প্রস্তুতি শুরু করতে হয়। এতে মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে।”
আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “বাউফল থেকে পটুয়াখালীর সড়ক ব্যবস্থা ভালো নয়। ভাঙাচোরা রাস্তায় যাতায়াতে সময় বেশি লাগে। সামান্য দেরি বা দুর্ঘটনায় পড়লে পরীক্ষাই মিস হতে পারে।”
কালাইয়া ইদ্রিস মোল্লা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ এনায়েত হোসেন জানান, “প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৪৫০ টাকা নেয়া হলেও আমাদের দেয়া হয় ৩০০ টাকা। এতে কেন্দ্র পরিচালনার খরচ বহন করা সম্ভব হয় না। তাই আমরা কেন্দ্র প্রত্যাহারের আবেদন করেছি।”
এ বিষয়ে বাউফল ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আবুল বশার তালুকদার বলেন, “৪৫০ টাকা আদায়ের বিষয়টি সত্য। তবে ১৫০ টাকা মেইনটেন্যান্স খাতে রাখার বিধান রয়েছে। কেন্দ্র প্রত্যাহারের বিষয়ে আগে অবগত ছিলাম না। পরীক্ষা শুরুর ১২ দিন আগে বিষয়টি জানতে পারি। ভবিষ্যতে যেন নিজস্ব কেন্দ্রে পরীক্ষা আয়োজন করা যায়, সে চেষ্টা চলছে।




