![Logo]()
প্রিন্ট এর তারিখঃ অক্টোবর ২২, ২০২৬, ৪:৪৫ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ অক্টোবর ২২, ২০২৬, ৭:৪১ এ.এম
অসুস্থ হলেও মেলেনি ছুটি, ভালুকায় প্রাণ গেল ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা পোশাক শ্রমিকের
ময়মনসিংহের ভালুকায় অসুস্থতার পর ছুটি না দেওয়ার জেরে এক ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা পোশাক শ্রমিকের করুণ মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে কারখানা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বুধবার (২১ অক্টোবর) উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকায় অবস্থিত ‘এসকিউ সেলসিয়াস লিমিটেড’ কারখানায় মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটে।
নিহত শ্রমিকের নাম তাসমিনা আক্তার (৩১)। তিনি নেত্রকোনা সদর উপজেলার চল্লিশবাড়ি এলাকার ফজলুল রহমানের মেয়ে।
কারখানার সহকর্মীদের সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে প্রতিদিনের মতো কর্মস্থলে এসে কাজে যোগ দেন তাসমিনা। ফিনিশিং বিভাগের সাত নম্বর ফ্লোরে কাজ করার সময় তিনি মারাত্মক অসুস্থ বোধ করেন। সহকর্মীদের দাবি, তাসমিনা অসুস্থতার কথা জানিয়ে ছুটির আবেদন করলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ তা মঞ্জুর করেনি।
পরবর্তীতে তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে কারখানার নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্সে করে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাসমিনাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে তাসমিনার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে কারখানার অন্যান্য শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে কারখানা প্রাঙ্গণ ও ঢাকা-ময়মনসিংহ সংলগ্ন সড়কে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানান। এ সময় তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ী কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং কর্মস্থলে শ্রমিকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোরাল দাবি জানান।
ঘটনার খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় শিল্প পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরা।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ময়মনসিংহ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-৫-এর সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ফিরোজ রহমান জানান, অসুস্থতার পরও ছুটি না দেওয়ার যে অভিযোগটি উঠেছে, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ভালুকা শিল্পাঞ্চল পুলিশ-৫-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ আনছার উদ্দিন জানান, তাসমিনা ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। বুধবার সকাল আটটার দিকে তিনি শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে কারখানার মেডিকেল সেন্টারে যান। সেখানে ডা. জ্যোতি শুভ পাল তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং শ্বাসকষ্ট থাকায় অক্সিজেন সাপোর্ট দেন। এর ১৫-২০ মিনিট পর তাঁর অবস্থার আরও অবনতি হলে অ্যাম্বুলেন্সে করে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। এ সময় কারখানার এক মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ও নার্সসহ মোট তিনজন চিকিৎসাকর্মী তাঁর সঙ্গে ছিলেন।
এ ঘটনায় কারখানা প্রাঙ্গণে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
Copyright © 2026 Ajker Khobur. All rights reserved.