আইন কি সবার জন্য সমান নয়? রামু রাজারকুলে বনবিভাগের উচ্ছেদ এবং কিছু জ্বলন্ত প্রশ্ন

‎রামু রাজারকুলে বনবিভাগ কর্তৃক একটি বসতগৃহ গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমার নজরে এসেছে। একজন আইনপেশার মানুষ হিসেবে আমার বক্তব্য স্পষ্ট—বনবিভাগের জায়গায় অবৈধভাবে বসতঘর নির্মাণ করা নিশ্চিতভাবেই অপরাধ। তাই অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার আইনি পদক্ষেপে আমার কোনো আপত্তি নেই। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলুক।

‎কিন্তু আমার প্রশ্ন ও আপত্তির জায়গাটি সম্পূর্ণ ভিন্ন, যা আজ একজন আইনজীবী ও সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাকে বলতে বাধ্য করছে।

‎এই ঘরগুলো যদি অবৈধ হয়, তবে পাশের ঘরগুলো নয় কেন?

‎সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে, ভেঙে ফেলা বাড়িটির আশেপাশে আরও বেশ কিছু বসতঘর রয়েছে। এই উচ্ছেদ হওয়া ঘরটি যদি বনবিভাগের জায়গায় হয়ে থাকে, তবে পাশের ঘরগুলোও নিশ্চিতভাবে বনবিভাগের জায়গাতেই। যদি এই ঘরটি অবৈধ হয়, তবে অন্য ঘরগুলোও অবৈধ। ভাঙতে হলে সব ঘর ভাঙা হোক, সিলেক্টিভ বা বেছে বেছে কেন?

‎ভোটের সময় সব বৈধ, ভোটের পরে অবৈধ?

‎সবচেয়ে বড় বৈপরীত্য হলো—এই এলাকার মানুষের ভোট নিয়ে মেম্বার, চেয়ারম্যান, এমপি এমনকি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন! যদি এই ঘরবাড়ি বা এই অঞ্চলের মানুষগুলো অবৈধই হয়ে থাকে, তবে তাদের দেওয়া **ন্যাশনাল আইডি (NID) এবং জন্মনিবন্ধন** কি বৈধ? অবৈধ নাগরিক বা অবৈধ বাসিন্দাদের ভোটে কীভাবে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়? ভোটের আগে যদি সব বৈধ হয়ে যায়, তবে ভোটের পরে কেন তারা আবার রাতারাতি অবৈধ হয়ে উচ্ছেদের মুখোমুখি হয়?

‎রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও উল্টো পথ:

‎নির্বাচনের আগে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ সাহেব নিজে ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং কথা দিয়েছিলেন যে, নির্বাচনের আগে পিএফ (PF/পৌর বা সংরক্ষিত) জায়গাগুলো বন্দোবস্ত করে দেওয়া হবে। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর এখন দেখা যাচ্ছে সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র! কার ইশারায় আজ সাধারণ মানুষের ওপর এই জুলুম হচ্ছে? আজ সাধারণ মানুষের মনে তীব্র প্রশ্ন জেগেছে—দেশটা কি অন্য কোনো দেশের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে, নাকি আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক? সাধারণ মানুষকে এভাবে উচ্ছেদ করার আসল কারণ কী?

 অসাধু কর্মচারী, ঘুষ এবং ‘ম্যানেজ’ সংস্কৃতি:

‎ আদালতে প্রায়ই একটা আক্ষেপ শুনতে পাই—বনবিভাগের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যারা ‘ম্যানেজ’ বা ঘুষ দিতে পারে, তারা রাতারাতি বৈধ হয়ে যায়! তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয় না, তাদের ঘরও ভাঙা হয় না। আর যারা টাকা দিতে পারে না, কেবল তাদের বিরুদ্ধেই আইন প্রয়োগ হয়, মামলা দিয়ে ঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। বনবিভাগের কর্মকর্তারা এই অপরাধ অহরহ করে যাচ্ছেন।

‎আইন সবার জন্য সমান হতে হবে। যারা ঘুষ দেয় তাদের জন্য এক আইন, আর যারা দেয় না বা দিতে পারে না তাদের জন্য আরেক আইন—একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে তা কখনোই মেনে নেওয়া যায় না।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

বরগুনা জেলার পাথরঘাটায় হত্যা মামলার পলাতক অভিযুক্ত বেলায়েত’কে র‌্যাব-৮ কর্তৃক গ্রেফতার

বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর অপরাধে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে র‌্যাব জনগণের সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায়, র‌্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্প এর আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৭ মে ২০২৬ইং তারিখ রাতে বরগুনা জেলার তালতলী থানাধীন নিশানবাড়িয়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বরগুনা জেলার পাথরঘাটা থানার হত্যা মামলার পলাতক অভিযুক্ত মোঃ বেলায়েত (৪০), পিতা-মোঃ নিজাম, সাং-চর লাঠিমারা, ৯নং ইউপি, থানা- পাথরঘাটা, জেলা- বরগুনা’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এজাহারের বিবরণে জানা যায়, বাদী ও অভিযুক্তগন পাশাপাশি বসবাস করে। তাদের মধ্যে গাছ কাটা নিয়ে অনেকদিন যাবত বিবাদ চলে আসছিল। ঘটনার দিন গত ১০ মে ২০২৬ইং তারিখ পুনরায় তাদের মধ্যে গাছকাটা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে মারামারি হয় এবং অভিযুক্তগণ একত্রিত হয়ে বাদীর স্বামীকে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। উপস্থিত সাক্ষীর ডাক চিৎকারে ঘটনাস্থলে অন্যান্য সাক্ষীরা এগিয়ে আসলে অভিযুক্তগণ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ভিকটিমকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১১ মে ২০২৬ইং তারিখ তিনি মারা যান। উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের স্ত্রী বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।  উল্লেখ্য যে, নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই র‌্যাব-৮, ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে। অপরাধী অত্যন্ত চতুরতার সাথে এলাকা ত্যাগ করে আত্মগোপনে চলে যায় এবং তার অবস্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। কিন্তু র‌্যাব-৮ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে অভিযুক্ত’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃত অভিযুক্তকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বরগুনা জেলার আমতলী থানায় হস্তান্তর করা হয়।