আকস্মিক চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এসময় তিনি হাসপাতালটিকে ১৫১ শয্যার পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল করার ঘোষণা দেন। তাছাড়া নানা সংকট সমাধানের আশ্বাসে তিনি বলেছেন, ‘আমাকে প্রধানমন্ত্রী পাঠিয়েছেন, আমি খালি হাতে আসিনি।’
আজ শনিবার (৩ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শন করেন এবং চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসাসেবার সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ নেন।
পরিদর্শনকালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মন্ত্রীকে জানায়, পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি বৃহত্তর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। পটিয়ার প্রায় ৭ লাখ মানুষের পাশাপাশি বাঁশখালী, চন্দনাইশ, আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলার আরও প্রায় চার লাখ মানুষ এই হাসপাতাল থেকে চিকিৎসাসেবা নেন। ফলে প্রতিদিনই রোগীর ব্যাপক চাপ থাকে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বহির্বিভাগে প্রতিদিন এক হাজারের বেশি রোগী চিকিৎসা নেন। এছাড়া প্রতিদিন প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জনবলসহ বিভিন্ন সংকটের কথা তুলে ধরে মন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করে।চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যা সংকট নিরসনে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ১৫১ শয্যায় উন্নীতকরণের টেন্ডার কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বৃহত্তর এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে একটি মডেল হাসপাতালে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে দেশের ৫০ শয্যার হাসপাতালগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যেখানে হাসপাতাল নেই, প্রয়োজন অনুযায়ী সেখানেও নতুন ১০১ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, ভর্তি রোগীদের রক্ত পরীক্ষা হাসপাতাল থেকেই করার ব্যবস্থা করতে হবে। রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ ও স্যালাইন সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি হাসপাতালের খাবারের মান উন্নত করতে হবে। রোগীরা যাতে যথাযথ চিকিৎসাসেবা পান, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন তিনি।
পরিদর্শনকালে হাসপাতালের চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিয়েও খোঁজ নেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। কর্তৃপক্ষ জানায়, শতভাগ চিকিৎসক উপস্থিত না থাকলেও অধিকাংশ চিকিৎসক কর্মস্থলে উপস্থিত রয়েছেন।