
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ধাপে ধাপে প্রকাশ করা এপস্টেইন-সংশ্লিষ্ট কিছু নথির ওপর বিশেষভাবে নজর দিয়েছে গোষ্ঠীটি। এসব নথিতে এমন কিছু প্রতিবেদন রয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে, সৌদি রাজদরবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এপস্টেইনকে কাবার গিলাফের নকশা ও কাপড় দিয়ে সাজানো ট্যাপেস্ট্রি পাঠিয়েছিলেন। ইসলামের পবিত্রতম স্থান কাবার গিলাফ এপস্টেইনের কাছে পাঠানো হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হুতির এই প্রচারাভিযানে বিভিন্ন ধরনের মাধ্যম ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে বিবৃতি, ভিডিও, গান, বক্তৃতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবশালীদের পোস্ট। এসব প্রচারের লক্ষ্য সৌদি আরবের মতো প্রতিপক্ষকে আঘাত করা। সৌদি আরব আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সরকারকে সমর্থন করে, যার সঙ্গে হুতিরা গৃহযুদ্ধে লিপ্ত.
প্রচারের কেন্দ্রে মক্কা
চলতি গ্রীষ্মে যুদ্ধ নতুন করে তীব্র হওয়ার পর হুতির যোগাযোগ ও প্রচারাভিযান আরও গতি পেয়েছে। এসব প্রচারে নিজেদের বিদেশি প্রভাবের বিরুদ্ধে ইসলামের রক্ষক হিসেবে তুলে ধরছে গোষ্ঠীটি।
গত মাসে সৌদি আরব অভিযোগ করেছিল, হুতি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। তবে এ অভিযোগ স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছে গোষ্ঠীটি। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে হুতির সরকারি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্য উদ্ধৃত করে গোষ্ঠীটির প্রেসিডেন্ট মাহদি আল-মাশাতকে বলতে শোনা যায়, ‘যারা এপস্টেইনকে কাবার গিলাফ দিয়েছিল, তারাই মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু করছে।’
চলতি বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টেইন-সংশ্লিষ্ট নথি প্রকাশ করার পর গিলাফ পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে সৌদি কর্মকর্তারা কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। আল-মাশাতের বক্তব্য হুতির বিভিন্ন প্রচারমাধ্যমে নানাভাবে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে এ তথ্য। ইয়েমেনের কৌতুক অভিনেতা মুস্তফা আল-মুমারি, এ বিষয়ে একটি ভিডিও তৈরি করেছেন, তার এক্সে ২৭ লাখের বেশি অনুসারী রয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়েমেনের একজন ঐতিহ্যবাহী সংগীতশিল্পীও এই দাবি নিয়ে একটি গান লিখেছেন।
প্রচারে সামনে প্রভাবশালীরা
ইয়েমেনি কৌতুক অভিনেতা মুস্তফা আল-মুমারি ২০২৩ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর হুতি ও সৌদি আরবের বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেছেন। তিনি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সমালোচনাও করেছেন।
২০১৯ সালে এপস্টেইন নিউইয়র্কের একটি কারাগারে আত্মহত্যা করে মারা গেছেন বলে কর্মকর্তারা জানান। তিনি ছিলেন ইহুদি মার্কিন নাগরিক। হুতি নেতা আবদুল মালিক আল-হুতির বক্তৃতায় প্রায়ই এপস্টেইনের প্রসঙ্গ উঠে আসে।
ফেব্রুয়ারিতে দেয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন, ‘এপস্টেইনের নথিগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের দাবি রাখে। এগুলো এমন একটি জায়নবাদী প্রজননকেন্দ্র উন্মোচন করে, যেখানে নেতা ও অভিজাতদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয় ,হুতিদের এই কৌশল কিছু ক্ষেত্রে কাজে দিচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে নিউইয়র্ক টাইমস। অন্তত একটি ঘটনায়, এপস্টেইন-সংশ্লিষ্ট নথি নিয়ে নিয়মিত পোস্ট করা জনপ্রিয় ডানপন্থি পডকাস্টার জেক শিল্ডস হুতির দৃঢ়তার প্রশংসা করেছেন।





