আবারও কালিগঞ্জ উপজেলা শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক গাজী মিজানুর রহমান

শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদান, নেতৃত্বের দক্ষতা, সৃজনশীল কর্মকাণ্ড এবং মানবিক মূল্যবোধের স্বীকৃতিস্বরূপ আবারও উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বড়শিমলা কারবালা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গাজী মিজানুর রহমান। আগামী বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে সারাদেশে পরিচালিত শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচন প্রক্রিয়া-২০২৬-এর আওতায় তাকে কালিগঞ্জ উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত করা হয়েছে।

গাজী মিজানুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতার পাশাপাশি শিক্ষা বিস্তার, সাহিত্যচর্চা, সাংবাদিকতা এবং আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। তার বহুমাত্রিক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে এ অর্জনকে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। টানা পাঁচবার উপজেলা শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক শিক্ষাক্ষেত্রে গাজী মিজানুর রহমানের অর্জনের ধারাবাহিকতা বেশ উল্লেখযোগ্য। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচবার তিনি উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন। এর পাশাপাশি সাতক্ষীরা জেলার পর্যায়েও তিনি তিনবার জেলা শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।
একজন বিদ্যালয় প্রধান হিসেবে শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশ, সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং বিদ্যালয়ের সামগ্রিক পরিবেশ উন্নয়নে তার ভূমিকা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
তার নেতৃত্বে বড়শিমলা কারবালা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পাশাপাশি তাদের সৃজনশীলতা ও প্রতিভা বিকাশে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। শিক্ষকতা পেশাকে কেবল চাকরি হিসেবে নয়, সমাজ ও জাতি গঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। শিক্ষক গাজী মিজানুর রহমানের পরিচয় শুধু একজন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি একাধারে কবি ও সাহিত্যিক। দীর্ঘদিন ধরে সাহিত্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত থেকে সমাজ, মানুষ, প্রকৃতি ও জীবনের নানা বিষয় তার লেখায় তুলে ধরছেন।
শিক্ষকতা ও সাহিত্যচর্চার এই সমন্বয় তার ব্যক্তিত্বকে দিয়েছে ভিন্নমাত্রা। শিক্ষার্থীদের মধ্যেও সাহিত্য ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের প্রতি আগ্রহ তৈরিতে তিনি ভূমিকা রাখছেন। গাজী মিজানুর রহমান একজন সিনিয়র সাংবাদিক হিসেবেও পরিচিত। শিক্ষা ও সামাজিক নানা বিষয় নিয়ে লেখালেখির পাশাপাশি তিনি সাংবাদিকতার মাধ্যমে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে ভূমিকা রেখে চলেছেন। একজন শিক্ষক হিসেবে শিক্ষা ও সমাজের বাস্তবতা কাছ থেকে দেখার সুযোগ এবং একজন সাংবাদিক হিসেবে সেই বাস্তবতাকে মানুষের সামনে তুলে ধরার অভিজ্ঞতা—দুই ক্ষেত্রের সমন্বয়ে তার সামাজিক ভূমিকা আরও বিস্তৃত হয়েছে। শিক্ষা ও সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি আর্তমানবতার সেবায়ও সক্রিয় রয়েছেন গাজী মিজানুর রহমান। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সাতক্ষীরা হিউম্যান ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন এবং কালিগঞ্জ আলোর পথিক ফাউন্ডেশন-এর মাধ্যমে তিনি অসহায়, দরিদ্র ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগে সম্পৃক্ত রয়েছেন।
বিশেষ করে শীত মৌসুমে অসহায় মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহযোগিতা এবং বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ডে তিনি ভূমিকা রেখে আসছেন।
তার এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদান নয়; বরং সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণেও অর্জন
শিক্ষাক্ষেত্রে নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন গাজী মিজানুর রহমান। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০১৯ সালে তিনি নিউজিল্যান্ডে বিজ্ঞান বিষয়ে আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এই প্রশিক্ষণ তার পেশাগত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় আধুনিক ও কার্যকর শিক্ষাপদ্ধতি সম্পর্কে অর্জিত জ্ঞান তিনি শিক্ষকতা ও বিদ্যালয় পরিচালনার কাজে প্রয়োগের চেষ্টা করে আসছেন।
স্বীকৃতির ধারাবাহিকতায় নতুন সংযোজন
একজন শিক্ষকের জন্য উপজেলা, জেলা ও জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন স্বীকৃতি যেমন সম্মানের, তেমনি এগুলো তার ওপর দায়িত্বও বাড়িয়ে দেয়। গাজী মিজানুর রহমানের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ার পর এবার ২০২৬ সালের উপজেলা শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হওয়া তার কর্মজীবনের অর্জনের তালিকায় নতুন একটি অধ্যায় যুক্ত করেছে।
শিক্ষকতা, সাহিত্য, সাংবাদিকতা ও মানবসেবার মতো ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রকে একইসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কারণে গাজী মিজানুর রহমানের কর্মকাণ্ড স্থানীয় পর্যায়ে একটি বহুমাত্রিক উদাহরণ তৈরি করেছে। শিক্ষাঙ্গন থেকে সমাজের বৃহত্তর পরিসরে একজন আদর্শ শিক্ষকের ভূমিকা শুধু শ্রেণিকক্ষের পাঠদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়—শিক্ষার্থীদের মানবিক, নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাও তার অন্যতম দায়িত্ব। গাজী মিজানুর রহমানের দীর্ঘদিনের কর্মকাণ্ডে শিক্ষকতার পাশাপাশি সমাজসেবার এই দৃষ্টিভঙ্গিও প্রতিফলিত হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করা, সাহিত্যচর্চা এবং সাংবাদিকতার মাধ্যমে সমাজের নানা বিষয় তুলে ধরা—সব মিলিয়ে তার কর্মপরিধি বিস্তৃত।
বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে কালিগঞ্জ উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে সেই দীর্ঘ পথচলার আরেকটি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি মিলল।
গাজী মিজানুর রহমানের এই অর্জনে তার সহকর্মী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শুভাকাঙ্ক্ষী ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। তারা তার আরও সাফল্য এবং শিক্ষা ও মানবসেবামূলক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা কামনা করেছেন।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

বানেশ্বর পৌরসভা ঘোষণার গণশুনানি, পক্ষে স্থানীয়দের মতামত নাগরিক সেবা ও পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনার প্রত্যাশা এলাকাবাসীর

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও যোগাযোগকেন্দ্র বানেশ্বরকে পৌরসভা ঘোষণার