বরগুনার আমতলী উপজেলায় ছবি ভাইরাল করার হুমকির জেরে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি উপজেলার সদর ইউনিয়নের সেকান্দারখালী গ্রামে ঘটে।
নিহত শিক্ষার্থীর নাম শারমিন আক্তার (১৮)। তিনি খেপুপাড়া সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়-এর এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কলাপাড়া উপজেলা-এর রজপাড়া গ্রামের এক শিক্ষার্থী আরাফাত শারমিনকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে তার সহযোগী, আমতলীর এক কলেজ শিক্ষার্থী জিসান শারমিনের ছোট বোনকেও একই প্রস্তাব দেন। দুই বোনই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, এক পর্যায়ে শারমিনকে জোরপূর্বক একটি অটোরিকশায় তুলে ছবি ধারণ করা হয় এবং তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এছাড়া পরিবারকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোরপূর্বক বিয়ের চাপও সৃষ্টি করা হয় বলে জানা গেছে।
পরিবারের দাবি, এসব হুমকি ও সামাজিক লজ্জার আশঙ্কায় শারমিন চরম মানসিক চাপে ছিলেন। পরে সোমবার সন্ধ্যায় বাড়ির পেছনের একটি বাথরুমে তিনি অচেতন অবস্থায় পাওয়া যান। স্বজনরা দ্রুত তাকে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় কলাপাড়া থানা-এ একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আমতলী থানা-এ মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন নিহতের পরিবার।
শারমিনের বাবা আব্দুস সালাম হাওলাদার জানান, “আমার মেয়ের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের বিচার চাই।”
মা মুন্নি বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ওদের কারণেই আমার মেয়ের জীবন চলে গেছে, আমি বিচার চাই।”
বিশ্লেষণস্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কেন্দ্র করে ভয়ভীতি, ব্ল্যাকমেইল ও মানসিক চাপের ঘটনা বাড়ছে। এ ধরনের অপরাধ রোধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের সচেতনতা জরুরি।




