ঈশ্বরদীতে জমি দখলের অভিযোগে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন

পাবনার ঈশ্বরদীতে বড়ইচারা মোড় সংলগ্ন মৃত আব্দুর রশিদ বিশ্বাসের মালিকানাধীন সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী মৃত নজরুল ইসলাম মন্ডলের ছেলে এবং পূর্বাশা গ্রুপের মালিকপক্ষের সদস্য মোঃ শামীম আহম্মেদ ও সাব্বির আহম্মেদের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জমির মালিকানা ফিরে পাওয়া এবং সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

আজ (২৭ সেপ্টেম্বর) ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে এ মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সময় তারা জমির মালিকানা সংক্রান্ত দলিল, খাজনা ও খারিজের কাগজপত্র উপস্থাপন করে নিজেদের সম্পত্তি বুঝে পাওয়ার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, মৃত আব্দুর রশিদ বিশ্বাসের মালিকানাধীন জমি দীর্ঘদিন ধরে জোরপূর্বক দখলে রেখে সেখানে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। এতে তাদের স্বাভাবিক বসবাসের পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। জমির মালিকানা প্রমাণে সংশ্লিষ্ট পক্ষের কাছে দলিলাদি চাওয়া হলে তারা আজ-কাল করে সময়ক্ষেপণ করছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।

ভুক্তভোগীদের দাবি, নিজেদের অংশের জমি বুঝে নিতে সীমানাপ্রাচীর অপসারণের কথা বলা হলে দখলে থাকা পক্ষের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি তাদের বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

ভুক্তভোগীদের দাবি, নিজেদের অংশের জমি বুঝে নিতে সীমানাপ্রাচীর অপসারণের কথা বলা হলে দখলে থাকা পক্ষের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি তাদের বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা আরও জানান, জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য গত প্রায় ৩০ বছরে অন্তত ১০ বার সালিশের আয়োজন করা হয়েছে। এসব সালিশে সংশ্লিষ্ট তিন পক্ষের মূল দলিল নিয়ে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও অভিযুক্ত পক্ষ বিভিন্ন অজুহাতে উপস্থিত হতে পারেনি বলে অভিযোগ তাদের।

তারা আরও বলেন, অভিযুক্ত পক্ষ একাধিকবার সময় চেয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত তাদের সামনে মূল দলিল উপস্থাপন করা হয়নি বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, জমি সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ে বোর্ড অফিসে অভিযোগ করা হলে সরকারি আমিন এসে কাগজপত্র পর্যালোচনা করে একটি ফয়সালা দেন। তবে অভিযুক্ত পক্ষ সেই ফয়সালা মানতে রাজি হয়নি বলে দাবি করেন তারা।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত পক্ষ পুনরায় তিন মাস সময় চেয়েছিল। পরবর্তীতে সময় দেওয়া হলেও প্রায় এক বছর পার হয়ে গেছে। কিন্তু এখনো বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতা ব্যবহার করে তাদের বিভিন্ন সময়ে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদের হুমকি ও উচ্ছেদের চেষ্টার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তারা।

এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য সংবাদ সম্মেলনে পাওয়া যায়নি।
সংঘাত নয়, আইনসম্মত সমাধান চান ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বলেন, “আমরা কোনো সংঘাত বা বিশৃঙ্খলা চাই না। আমরা সম্পূর্ণ আইনসম্মত উপায়ে বিষয়টির নিষ্পত্তি চাই। আমাদের মালিকানাধীন সম্পত্তির দলিল, খাজনা ও খারিজের কাগজপত্র রয়েছে। আমরা সেসব প্রমাণের ভিত্তিতে আমাদের জমির মালিকানা ফিরে পেতে চাই।”

তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলতে থাকায় তারা বাধ্য হয়ে জনসমক্ষে বিষয়টি তুলে ধরেছেন। সাংবাদিকদের মাধ্যমে দেশের আইন ও বিচারব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে ভুক্তভোগী পরিবার তাদের মালিকানাধীন সম্পত্তি ফিরে পাওয়া, হয়রানি ও হুমকি থেকে রক্ষা এবং জমি সংক্রান্ত বিরোধের সুষ্ঠু নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগাতে প্রশাসন ও বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসার আহবান ময়মনসিংহের ডিসির

“ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে