উল্লাপাড়ায় ভিয়েতনামে চাকরির নামে প্রতারণার অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচারের দাবি

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ভিয়েতনামে উচ্চ বেতনে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা নেওয়া, বিদেশে পাঠাতে ব্যর্থ হওয়া এবং পরে নেপালে পাঠিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন আর. এস এলাকার নতুন চাঁদপুর গ্রামের মো. আল আমিন। একই ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও ঘুষ দাবি ও একপেশে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগ এনে নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (৫ অক্টোবর) উল্লাপাড়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আল আমিন এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে আল আমিন বলেন, একই গ্রামের মো. দেলোয়ার হোসেন দুলাল ও তার মেয়ের জামাই মো. নীহাদ ভিয়েতনামে একটি পার্টনারশিপ কোম্পানি/ব্যবসা পরিচালনা করেন বলে তাকে জানানো হয়। সেখানে উচ্চ বেতনে চাকরির সুযোগ রয়েছে এমন বিভিন্ন ভিডিও দেখিয়ে তাকে বিদেশে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, ভিয়েতনামে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে প্রথমে ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরে ভিয়েতনামের ভিসা বন্ধ থাকার কথা জানিয়ে তাকে প্রথমে চীনে পাঠানো হয়। সেখান থেকে ভিয়েতনামে পাঠানোর কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি।
আল আমিনের দাবি, তিনি ২০২৫ সালের ১ মে চীনে যান। সেখানে বিভিন্ন মেয়াদের ভিসায় মোট ৯৫ দিন অবস্থান করেও ভিয়েতনামে যেতে পারেননি। পরে বাধ্য হয়ে চীন থেকে দেশে ফিরে আসেন।
দেশে ফেরার পরও ভিয়েতনামের ভিসা করে দেওয়ার কথা বলে তাকে নেপালে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। নেপালে প্রায় ৩০ দিন অবস্থান করেও ভিয়েতনামে যেতে না পারায় বিষয়টি প্রতারণা বলে বুঝতে পারেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আল আমিন আরও অভিযোগ করেন, নেপালে অবস্থানকালে স্থানীয় কয়েকজন তার কাছে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন এবং টাকা না দিলে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেন। বিষয়টি দেলোয়ার হোসেন দুলালকে জানালে তিনি ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে পাঠাতে বলেন বলে দাবি করেন আল আমিন। পরে পরিবারের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ওই অর্থ দেওয়ার পর তিনি নেপাল থেকে দেশে ফিরে আসেন।
পরবর্তীতে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি বলে জানান আল আমিন। এরপর তিনি সিরাজগঞ্জের বিজ্ঞ জেলা জজ আদালতে মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার উল্লাপাড়া মডেল থানাকে দেওয়া হলে এসআই মো. আসাদুজ্জামান তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব নেন।
তবে তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেন আল আমিন। তার দাবি, তদন্তের সময় তার কাছে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করা হয়। টাকা না দেওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তা যথাযথ তদন্ত না করে সাক্ষীদের তথ্য গোপন এবং ঘটনাস্থলে না গিয়ে ঘটনাটিকে ‘মিথ্যা ও সাজানো’ উল্লেখ করে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
এ অবস্থায় তদন্ত কর্মকর্তার ক্ষমতার অপব্যবহার ও ঘুষ দাবির অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত, প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মামলাটি পুনঃতদন্তের দাবি জানান আল আমিন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিদেশে চাকরির আশায় তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাই অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মো. দেলোয়ার হোসেন দুলাল ও মো. নীহাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. আসাদুজ্জামানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কলটি রিসিভ করেননি। ফলে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

পঞ্চকরন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন- আলোচনায় জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ নজরুল ইসলাম শাহীন

বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার পঞ্চকরন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অনেকেই প্রতিদ্বন্দিতা করবেন