এক প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, দুই আয়োজনের অভিযোগ! পার্বতীপুর বিএনপিতে নতুন সমীকরণ, উত্তেজনার শঙ্কা

একটি দল। একটি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। কিন্তু কর্মসূচি ঘিরে ভিন্ন ভিন্ন উদ্যোগের অভিযোগ। বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের আগেই দিনাজপুরের পার্বতীপুরে সামনে এসেছে স্থানীয় নেতৃত্বের ভেতরের মতবিরোধের অভিযোগ। উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতারা বলছেন, পূর্বনির্ধারিত দলীয় কর্মসূচির বাইরে পৃথকভাবে আয়োজনের চেষ্টা চলছে। আর এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে দেখা দিয়েছে নতুন আলোচনা—পার্বতীপুরে বিএনপির কর্মসূচির নিয়ন্ত্রণ আসলে কার হাতে?
পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানাতে শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুর ১২টায় পার্বতীপুর প্রেসক্লাবে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেছে পার্বতীপুর উপজেলা ও পৌর বিএনপি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম শাহ।
তার অভিযোগ, বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে স্থানীয় বিএনপির পূর্বনির্ধারিত সাংগঠনিক কর্মসূচিকে বিভ্রান্ত ও প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চলছে।
কার বিরুদ্ধে অভিযোগ?
সংবাদ সম্মেলনে আমিনুল ইসলাম শাহ অভিযোগ করেন, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত এবং বর্তমানে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য এ জেড এম রেজওয়ানুল হক নিজ উদ্যোগে পার্বতীপুরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের পৃথক কর্মসূচি আয়োজনের চেষ্টা করছেন।
তার দাবি, দলীয় গঠনতন্ত্র ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের বাইরে একই দলের নামে কর্মসূচি আয়োজন করা হলে সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে।
তবে এই অভিযোগের বিষয়ে এ জেড এম রেজওয়ানুল হকের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
ঢাকা মোড় কেন আলোচনায়?
পার্বতীপুর পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আনোয়ারুল হক বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় সূত্রে তারা জানতে পেরেছেন, শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ঢাকা মোড়ে পৃথকভাবে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের প্রস্তুতির কথা প্রচার হচ্ছে।
এখানেই তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন।
স্থানীয় বিএনপির নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের সাংগঠনিকভাবে নির্ধারিত কর্মসূচি রয়েছে। একই সময়ে বা কাছাকাছি এলাকায় ভিন্ন নেতৃত্বে একই দলের নামে কর্মসূচি হলে—
কার কর্মসূচিতে সাধারণ নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন?
দলীয় ব্যানার ও পরিচয় ব্যবহারের অনুমোদন কার?
পৃথক কর্মসূচি নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কোনো নির্দেশনা আছে কি না?
একই দিনে একাধিক আয়োজন হলে তা দলীয় ঐক্যের ওপর কী প্রভাব ফেলবে?
এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়।
কী বলছে স্থানীয় বিএনপি?
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতাদের বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে দলীয় শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের বিষয়টি।
তাদের দাবি, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মতো গুরুত্বপূর্ণ দলীয় কর্মসূচি কোনো ব্যক্তিগত শক্তি প্রদর্শনের ক্ষেত্র হওয়া উচিত নয়। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা এবং অনুমোদিত স্থানীয় সাংগঠনিক কাঠামোর মাধ্যমেই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।
তাদের ভাষ্য, পার্বতীপুরে বিএনপির নেতাকর্মীরা কোনো বিভাজন চান না। তারা চান শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি।
উত্তেজনার শঙ্কা কেন?
এখন পর্যন্ত পার্বতীপুরে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি। তবে একই দলীয় পরিচয়ে একই এলাকায় পৃথক কর্মসূচির অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় নেতাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসূচির সময়, স্থান ও নেতৃত্ব নিয়ে স্পষ্ট সমন্বয় না থাকলে বিভ্রান্তির সুযোগ তৈরি হতে পারে। আর রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতির কারণে সামান্য ভুল বোঝাবুঝিও কখনো কখনো বড় পরিস্থিতিতে রূপ নিতে পারে।
এ কারণে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতারা।
 কী ঘটছে পার্বতীপুর বিএনপিতে?
১. কেন্দ্রীয় কর্মসূচি, স্থানীয় বিতর্ক
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী একটি কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক কর্মসূচি হলেও পার্বতীপুরে তা বাস্তবায়নের পদ্ধতি ও নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
২. পৃথক আয়োজনের অভিযোগ
উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতারা অভিযোগ করেছেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির বাইরে পৃথক আয়োজনের চেষ্টা চলছে।
৩. ঢাকা মোড় আলোচনার কেন্দ্র
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় সূত্রের ভিত্তিতে শহরের ঢাকা মোড়ে পৃথক কর্মসূচির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।
৪. নেতৃত্বের প্রশ্ন
স্থানীয় বিএনপির নেতারা বলছেন, দলীয় কর্মসূচি অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামোর মাধ্যমে পরিচালিত হওয়া উচিত।
৫. অপর পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি
অভিযোগের বিষয়ে এ জেড এম রেজওয়ানুল হকের বক্তব্য এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে কারা ছিলেন?
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পার্বতীপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শাহাদাৎ হোসেন সাদো, মাহবুব রশিদ সংগ্রাম, মোখলেছুর রহমান, রবিউল ইসলাম বাবু, শরিফুল ইসলামসহ উপজেলা ও পৌর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
এখন দেখার বিষয়
পার্বতীপুরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে তৈরি হওয়া এই পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যায়, সেটিই এখন স্থানীয় রাজনীতির বড় প্রশ্ন।
দলীয় নেতৃত্ব কি দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে কর্মসূচি নিয়ে বিভ্রান্তির অবসান ঘটাবে?
নাকি একই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে ঘিরে পৃথক অবস্থান পার্বতীপুরের রাজনৈতিক মাঠে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে?
একটি বিষয় নিশ্চিত—প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন যত এগিয়ে আসছে, পার্বতীপুর বিএনপির স্থানীয় রাজনীতিতে প্রশ্ন, আলোচনা ও কৌতূহল ততই বাড়ছে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন