তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা পরিলক্ষীত করেই একসময়ের রাজপথের লড়াকু ও ত্যাগী নারী নেত্রী এ্যাডভোকেট রেজেকা সুলতানা ফেন্সি এয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচনে মনোনয়নের চূড়ান্ত তালিকায় নাম দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি ও জোট মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নাম মনোনীত হওয়ায় বিএনপির হাই কমান্ড ও মনোনয়ন বোর্ডের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিবাদন জানিয়েছেন রংপুরের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, আইনজীবীসহ বিভিন্ন মহল।
এ্যাডঃ রেজেকা সুলতানা ফেন্সি রংপুরের রাজনৈতিক অংগনে এক সুপরিচিত নাম। জাতীয়তাবাদী আদর্শের দীর্ঘদিনের এক পরিক্ষীত সৈনিক। রংপুরের রাজনীতিতে যাদের নিরলস বিচরণ, যারা ত্যাগ ও সংগ্রামের মাধ্যমে রাজপথে লড়াই করেছেন, যাদের সাহসিকতায় আন্দোলনের ধারা বেগবান হয়েছে তাদের মধ্যে অন্যতম এ্যাডঃ রেজেকা সুলতানা ফেন্সী।
রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নেয়া জাতীয়তাবাদী আদর্শের ধারক এই নেত্রী চার দশক ধরে রাজপথে সংগ্রাম করে আসছেন। তার পিতা একজন ছিলেন একজন মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক।
এ্যাডঃ রেজেকা সুলতানা ফেন্সী
স্কুল জীবন শেষ করে ১৯৮০ সালে কারমাইকেল কলেজে পড়াশোনার সময় রেজেকা সুলতানা ফেন্সী জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মাধ্যমে রাজীতিতে যুক্ত হন। কারমাইকেল কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে কমনরুম সম্পাদক পদে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন।
সেই থেকে শুরু রাজনীতির দীর্ঘ ও বর্ণঢ্য যাত্রা। স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে তিনি ছিলেন অগ্রভাগের সৈনিক। ১৯৮৪ সালের হরতাল, ১৯৮৬ সালের অবৈধ সংসদ বাতিলের আন্দোলন, ১৯৮৭ সালে “হঠাও স্বৈরাচার” আন্দোলন বা ১৯৯০ সারের গণ অভ্যুত্থান- সর্বক্ষেত্রেই রেজেকা সুলতানা ফেন্সী সরাসরি রাজপথে সাহসী ভূমিকা রেখেছেন।
ছাত্রদল করা অবস্থায় বৈবাহিক জীবনে পা দিলে ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি এবং অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করেন তিনি।
ছাত্রদলের পর প্রথমে শহর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক এরপর জেলা মহিলা দল রংপুরের সাধারণ সম্পাদক, জাসাসের সভাপতি, জাসাসের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি দায়িত্ব পালনের পর তিনি জাতীয়তাবাদী আইনজীবি ফোরামের সহ-সভাপতি, মহানগর মহিলা দলের সভাপতি মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। আন্দোলন সংগ্রামের গ্রেফতার নেতা কর্মীদের মামলা পরিচালনা ও আইনী সহায়তা প্রদানেও তার ভূমিকা অনন্য।এ্যাডঃ
রেজেকা সুলতানা ফেন্সী তার সাহসী রাজনৈতিক ভূমিকার পাশাপাশি বাংলাদেশ বেতার ও টিভির একজন বিশেষ গ্রেডের সংগীত শিল্পী হওয়ায় সেখানেও ১৭ বছর কালো তালিকা ভূক্ত করে রেখেছে হাসিনা সরকার। স্বৈরাচারের বারবার হয়রানি, পরিবারের উপর চাপ, এমনকি স্বামী সরকারি চাকুরী কারায় হয়রানি বদলির মতো পরিস্থিতিও তাকে দমাতে পারেনি এ্যাডঃ রেজেকা সুলতানা ফেন্সী এখন রংপুরের বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে শুধু একজন নেত্রী নন, তিনি সাহস, সততা, প্রতিবাদী ও ত্যাগের প্রতীক। তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত তার জনপ্রিয়তা তাকে রাজনীতির অগ্রগামী সারিতে নিয়ে এসেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি নিয়ে রংপুরে শুরু হয়েছে আলোচনা।
সংরক্ষিত মহিলা আসনে সংসদ সদস্য হতে রংপুর মহানগর ও জেলার ক্ষমতাসীন দলের নারী নেত্রীরা সরব হয়ে উঠেছেন। তারা অনেকেই কেন্দ্রীয় লবিং-তদবিরে জন্য ঢাকায় অবস্থান করছেন। ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক ও
পারিবারিক জীবন-বৃত্তান্ত উপস্থাপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অনেকেই কেন্দ্রীয় নেতাদের দ্বারস্থ হচ্ছেন। তবে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের আলোচনায় এ্যাডঃ ফেন্সির নাম সবচেয়ে বেশি উঠে আসছে। বিএনপি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের একটি অংশ তাকে সংরক্ষিত আসনে সংসদ
সদস্য হিসেবে দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। বিগত দিনে দলের কর্মকান্ডে সম্পৃক্ততা এবং এ্যাডভোকেট হিসেবে দলীয় কর্মীদের আইনী সহায়তা দানের বিষয়টির তৃণমুলের নেতাকর্মীরা মুল্যায়ন চান। স্বৈরাচার ও ফ্যাসিস্টদের নির্যাতন, মামলার পরও সুদীর্ঘ ১৯৮০ সাল থেকে এ পর্যন্ত নিরবিচ্ছিন্নভাবে দলীয় কর্মকান্ডে সম্পৃক্ততা. তৃণমুল পর্যায়ে দলীয় কর্মীদের আইনী সহায়তা প্রদানসহ তৃণমূল পর্যায়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক কর্মকান্ডের কারণে তিনি রংপুরে গ্রহণযোগ্য মুখ হয়ে উঠেছেন।
বিএনপির বিভিন্ন সাংগঠনিক পদে দায়িত্ব পালন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ততা এবং রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় থাকার কারণে তাকে সংরক্ষিত আসনের উপযুক্ত প্রার্থী মনে করছেন কর্মী-সমর্থকরা। এরই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও জোটের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার সংরক্ষিত মহিলা আসনের চুরন্ত মনোনয়ন পেলেন এই দক্ষ ত্যাগী ও রাজপথের লড়াকু সৈনিক এ্যাডঃ রেজেকা সুলতানা ফেন্সি।




