‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে মোবাইল বা ক্যামেরা ব্যবহার করে অনুমতি ছাড়া কোনো ব্যক্তির ভিডিও ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের ঘটনায় ৯০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৮তম দিনে নেত্রকোণা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালী এ বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেন, যা গত ১৯ এপ্রিলের জন্য নির্ধারিত ছিল।
লিখিত প্রশ্নে রফিকুল ইসলাম হিলালী উল্লেখ করেন, ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে অনেকেই মোবাইল বা ক্যামেরা নিয়ে ঘুরে ঘুরে অনুমতি ছাড়াই ব্যক্তির ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রসালো শিরোনামে প্রচার করছেন। অনেক ক্ষেত্রে এসব ভিডিও ব্যবহার করে হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবির ঘটনাও ঘটছে। এ বিষয়ে সরকারের গৃহীত প্রতিরোধমূলক, আইনগত ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চান তিনি।
জবাবে মন্ত্রী জানান, ‘সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬’-এর আওতায় এ ধরনের অপরাধের জন্য শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। আইনটির ধারা ২৫(২) অনুযায়ী, অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ ও প্রচারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে। ভুক্তভোগী নারী বা ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু হলে ধারা ২৫(৩) অনুযায়ী শাস্তি বৃদ্ধি পেয়ে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড বা ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে।
তিনি আরও জানান, চাঁদা দাবির বিষয়টি ধারা ২২-এর আওতায় সাইবার স্পেসে প্রতারণা হিসেবে গণ্য হবে, যেখানে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড বা ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, আইনটির ধারা ৮ অনুযায়ী জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালক ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণ বা ব্লক করার ক্ষমতা রাখেন এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করতে পারেন। ধারা ৯ অনুযায়ী জাতীয় সাইবার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম এবং ন্যাশনাল সিকিউরিটি অপারেশন সেন্টার এ ধরনের অপরাধ শনাক্ত ও প্রতিরোধে সক্রিয় থাকবে।
এছাড়া ধারা ৩৫ অনুযায়ী জরুরি ক্ষেত্রে পরোয়ানা ছাড়াই তল্লাশি চালানো, কম্পিউটার ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম জব্দ এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের ক্ষমতাও রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সরকার ভবিষ্যতে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির সক্ষমতা বৃদ্ধি, দক্ষ জনবল নিয়োগ এবং অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধ আরও কার্যকরভাবে দমন করার পরিকল্পনা নিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।




