কাচালং বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে জাঁকজমকপূর্ণ প্রতিভা সন্ধানী, পুরস্কার বিতরণ ও এসএসসি বিদায় সংবর্ধনা

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কাচালং বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বার্ষিক প্রতিভা সন্ধানী, পুরস্কার বিতরণ, নবীন বরণ ও এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকাল ১১টায় বিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভদ্রসেন চাকমা। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বিদ্যালয়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্য এবং ধারাবাহিক ফলাফল তুলে ধরে উপস্থিত সরকার দলীয় নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে বর্তমান বিএনপি সরকারের কাছে একমাত্র বালিকা বিদ্যালয়টি সরকারিকরণের দাবি জানান।

 

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত, গীতা পাঠ ও ত্রিপিটক পাঠের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নবীনদের ফুল দিয়ে বরণ এবং বিদায়ী শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা প্রদান করে। পরে বিদায়ী ও নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ মানপত্র পাঠ করা হয়।

 

কাচালং বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পঞ্চম কর্মকারের সঞ্চালনায় এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক সুনন্দা তালুকদারের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। তিনি বিদায়ী পরীক্ষার্থী ও নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাঘাইছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ ওমর আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাবেদুল আলম, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ রহমতুল্লাহ খাজা এবং বাঘাইছড়ি উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোঃ কবীর আহমেদ, বাঘাইছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ নাছির উদ্দীন মজুমদার। এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, পরিচালনা কমিটির সদস্য, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং  শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, নিয়মিত পড়াশোনা, ধারাবাহিক অনুশীলন ও আত্মবিশ্বাসই ভালো ফলাফলের মূল চাবিকাঠি। ভালো ফলাফল অর্জনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারবে এবং একটি মানসম্মত কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবে। এতে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি বাবা-মা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুনাম বৃদ্ধি পাবে এবং ভবিষ্যতে দেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। তারা আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার দেশের শিক্ষার মানোন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করছে।

 

এছাড়াও বক্তারা শিক্ষার্থীদের মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, একজন প্রকৃত শিক্ষিত মানুষ শুধু ভালো ফলাফলেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং মানবসেবা, সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের মাধ্যমে নিজেকে গড়ে তোলে। অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, সমাজে ন্যায়-নীতির চর্চা করা এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে কাজ করার মধ্য দিয়েই একজন শিক্ষার্থীর প্রকৃত বিকাশ ঘটে। তারা আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার দেশের শিক্ষার মানোন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করছে।

 

বক্তারা শিক্ষার্থীদের নকল বা যেকোনো অসদুপায় পরিহার করে সৎ, নৈতিক ও আত্মসম্মান বজায় রেখে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। পাশাপাশি মানসিক চাপমুক্ত থেকে ইতিবাচক মনোভাব ধরে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বক্তারা আরও বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশকে সমৃদ্ধ করে। সর্বোপরি, তারা সকল পরীক্ষার্থীর সর্বাঙ্গীণ সাফল্য ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।

 

আলোচনা সভা শেষে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

 

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীরা নৃত্য ও সংগীত পরিবেশন করে উপস্থিত অতিথিদের মুগ্ধ করেন।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন