দুই বছর আগে মারা যাওয়া যুবকের আবার নতুন করে বিয়ের রেজিস্ট্রি! গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে এমন অদ্ভুত ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছেন স্থানীয় নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) আব্দুল হাই। ২০২৪ সালে প্রয়াত মতিয়ার রহমান নামের এক যুবকের বিয়ে ২০২৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি রেজিস্ট্রি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। জালিয়াতির এমন ঘটনায় এলাকা জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদের নথি ও মৃত্যুসনদ অনুযায়ী, তারাপুর ইউনিয়নের লাটশালা গ্রামের তরুণ মতিয়ার রহমান ২০২৪ সালের ১৭ এপ্রিল গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহনন করেন।
স্থানীয়রা জানান, জীবিত থাকা অবস্থায় গ্রামের মো. নায়েব আলীর মেয়ে শারমিন আক্তারের সাথে মতিয়ারের বিয়ে হয়। মতিয়ারের মৃত্যুর পর নিয়ম অনুযায়ী শারমিনের অন্যত্র বিয়ে হয়ে যায়। সম্প্রতি পারিবারিক প্রয়োজনে মতিয়ারের বাবা মো. হোসেন আলী ছেলে ও সাবেক পুত্রবধূর বিয়ের পুরোনো নিকাহনামা তুলতে কাজীর দ্বারস্থ হন।
মতিয়ারের বাবার দাবি, পুরোনো বালাম বই থেকে নকল সরবরাহ না করে উল্টো মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ২০২৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তারিখে নতুন করে বিয়ের এন্ট্রি দেন কাজী আব্দুল হাই। জালিয়াতি জানাজানি হয়ে গেলে কাজী তাড়াহুড়ো করে ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি তারিখ বসানো অপর একটি নকল কপি ধরিয়ে দেন।
ক্ষোভ প্রকাশ করে হোসেন আলী বলেন, "আমার ছেলে দুই বছর আগেই মারা গেছে। আমি শুধু তাদের আগের বিয়ের একটা কপি চেয়েছিলাম। কাজী টাকার লোভে আমার মৃত ছেলের নামে ২০২৬ সালের তারিখে ভুয়া বিয়ে রেজিস্ট্রি করেছেন। আমি এই প্রতারণার কঠিন বিচার চাই।"
তবে জালিয়াতির সব দায় অস্বীকার করে কাজী আব্দুল হাইয়ের দাবি, "আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অসত্য। কোনো টাকার লেনদেন হয়নি, আর বালাম বইয়ের আইনি তথ্য অনুযায়ীই সনদ দেওয়া হয়েছে।"
এদিকে একই বিয়ের বিপরীতে দুটি ভিন্ন তারিখের (২০২৪ ও ২০২৬ সাল) নথি ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী কাজীর মূল বালাম বই জব্দ করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তারাপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম জানান, মতিয়ার রহমান ২০২৪ সালেই মারা গেছেন এবং তার মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক সনদ পরিষদ থেকে আগেই ইস্যু করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি জানান, মৃত্যুর পর কারো বিয়ে রেজিস্ট্রেশনের কোনো সুযোগ আইনে নেই। ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।