চোখ কপালে তোলার মতো এক ঘটনা! কাপড়ের ভেতর সুকৌশলে বডি ফিটিং করে বহন করা হচ্ছিল প্রায় সাড়ে ৩ কেজি গাঁজা। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। স্থানীয় সংসদ সদস্যের মাদকবিরোধী কঠোর হুশিয়ারি ও জিরো টলারেন্স নীতির বাস্তবায়নে মাঠে নামা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঝটিকা অভিযানে অবশেষে জালে ধরা পড়ল এক নারী মাদক কারবারি।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লার সীমান্তবর্তী ও শান্ত জনপদ ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায়।
জানা গেছে, গত শনিবার দুপুরের পর থেকেই ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্টে অপরাধ দমনে বিশেষ নজরদারি ও নিবিড় পর্যবেক্ষণ শুরু করে প্রশাসন। স্থানীয় সংসদ সদস্যের কড়া নির্দেশনার পর উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের যৌথ এই ঝটিকা অভিযান চলাকালে গোয়েন্দাদের নজরে আসে সন্দেহজনক এক নারীর গতিবিধি।
এরপর শশীদল ইউনিয়নের বাগড়া পশ্চিমপাড়া এলাকার একটি সড়কে সাধারণ পথচারীর বেশে চলাফেরা করা ওই নারীকে থামিয়ে শুরু হয় তল্লাশি। আর তখনই বেরিয়ে আসে আসল রহস্য! নিজের পরিধেয় কাপড়ের ভেতর অত্যন্ত সুকৌশলে টেপ ও বিশেষ উপায়ে বডি ফিটিং করে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বিশাল পরিমাণ এই গাঁজা।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ওই নারীর পরিচয় এবং তার অন্ধকার জগতের চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়—
দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ছদ্মবেশে এই অবৈধ মাদকের কারবার চালিয়ে আসছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পুলিশের কঠোর জালে বন্দি হয়ে তার এই গোপন সাম্রাজ্যের পতন ঘটেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন জানান, আটক নারীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
এমপির কঠোর বার্তা ও এলাকার যুবসমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে এমন সাঁড়াশি অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিত অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।