গ্রীষ্মের তপ্ত রোদে যখন প্রকৃতি কিছুটা ক্লান্ত হয়ে পড়ে, ঠিক তখনই কালীগঞ্জ উপজেলায় ফুটে ওঠা বেগুনি রঙের জারুল ফুল যেন প্রকৃতিতে নিয়ে এসেছে নতুন প্রাণ। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন জারুল ফুলের মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হচ্ছেন পথচারীরা।
কালীগঞ্জ উপজেলার নারগানা , জামাল পুর , জাঙ্গালিয়া , মুক্তারপুর সহ বিভিন্ন গ্রামে রাস্তার ধারে ও ঝোপঝাড়ে ফুটে থাকা জারুল ফুল দূর থেকেই নজর কাড়ছে। বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মাসজুড়ে এই ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ‘বাংলার চেরি’ নামে পরিচিত এই জারুল ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম গাছটি সাধারণত ১০ থেকে ২০ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয় এবং এর রয়েছে নানা ভেষজ গুণাগুণ।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একসময় কালীগঞ্জ উপজেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামেই প্রচুর জারুল গাছ দেখা যেত। কিন্তু সময়ের পরিবর্তন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও আবাসন সংকটের কারণে দিন দিন কমে যাচ্ছে এই গাছের সংখ্যা। ফলে বিলুপ্তির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
কালিগঞ্জ থানা প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাকারিয়া আল মামুন বলেন, “গ্রীষ্মকালে গ্রামের পথে জারুল ফুলের যে অপরূপ শোভা দেখা যায়, তা সত্যিই বিমোহিত করে। তবে গাছ কাটার প্রবণতা বাড়ায় এখন আগের মতো জারুল গাছ দেখা যায় না। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এই গাছ সংরক্ষণ করা জরুরি।”
ঘোড়াশাল পৌর এলাকার বাসিন্দা কালীগঞ্জ থানা প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি মোহাম্মদ নোমান জানান, ছোটবেলায় গ্রামের মেঠোপথের পাশে সারি সারি জারুল গাছ ছিল, যা এখন অনেকটাই কমে গেছে। তিনি সড়কের দুই পাশে বেশি করে জারুল গাছ রোপণের দাবি জানান, যাতে আগের সেই সৌন্দর্য ফিরে আসে।
পরিবেশবিদদের মতে, জারুল গাছ শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, বরং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই এখনই সচেতনতা বাড়িয়ে ব্যাপক হারে জারুল গাছ রোপণ ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।




