
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীর রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্মিত বাঁধের চারটি পৃথক স্থানে প্রায় ২০০ মিটার অংশে আবারও ফাটল ও ধস দেখা দিয়েছে। এতে কাঁচকোল ও পুঁটিমারি এলাকাসহ আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে উপজেলার কাঁচকোল বাজার ও পুঁটিমারি এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে বাঁধের আরও প্রায় ৩৫ মিটার অংশে নতুন করে ধস দেখা দেয়। এর আগে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে আরও দুটি স্থানে ফাটল ও ধস দেখা দেয়। এতে কাঁচকোল বাজার থেকে পুঁটিমারি পর্যন্ত প্রায় ৬০০ মিটার বাঁধের অংশ ভাঙনঝুঁকিতে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে বাঁধে ধস শুরু হলে একের পর এক কংক্রিটের ব্লক ও জিও ব্যাগ নদে ধসে পড়তে থাকে। এতে তীরবর্তী এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত সপ্তাহে কাঁচকোল বাজারসংলগ্ন ডান তীররক্ষা বাঁধের প্রায় ২৮ মিটার অংশে ধস দেখা দেয়। এর প্রায় ৬০০ মিটার দূরে পুঁটিমারি বাজারসংলগ্ন বাঁধের আরও প্রায় ৩০ মিটার অংশের জিও ব্যাগ সরে গিয়ে ব্লক পিচিংয়ে ফাটল দেখা দেয়। ওই দুটি স্থানের মেরামতকাজ শুরুর আগেই বৃহস্পতিবার রাতে মধ্যবর্তী স্থানে আরও প্রায় ৩৫ মিটার অংশে ধস দেখা দেয়।
পাউবো সূত্র জানায়, কাঁচকোল বাজার থেকে পুঁটিমারি পর্যন্ত প্রায় ৬০০ মিটার অংশের মধ্যে চারটি স্থানে অন্তত ২০০ মিটার অংশে ফাটল ও ধস দেখা দিয়েছে। বাঁধের ওই অংশটি দুর্বল কাঠামোর ওপর নির্মিত হওয়ায় সেখানে প্রায়ই ধস দেখা দেয়। পরে জরুরি প্রতিরক্ষা কাজের মাধ্যমে ঝুঁকি মোকাবিলা করা হয়।
পাউবো আরও জানায়, বাঁধের ডান তীর ঘেঁষে নদের মূল প্রবাহ থাকায় সেখানে বারবার ফাটল ও ধস দেখা দিচ্ছে। বিষয়টি জানিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।
এর আগে গত জুলাইয়ে তিন দফায় ব্রহ্মপুত্রের ডান তীররক্ষা বাঁধে ধস দেখা দেয়। পরে জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ধস ঠেকানোর উদ্যোগ নেয় পাউবো। এর দুই মাসের ব্যবধানে একই বাঁধের বড় একটি অংশে আবারও ধস দেখা দিয়েছে।
বাঁধে ধসের খবর পেয়ে শুক্রবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পাউবো রংপুর বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী। তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত মেরামতকাজ শুরুর আশ্বাস দেন।
স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে পানি বাড়ছে। ভাঙনও বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্রুত প্রতিরোধ ব্যবস্থা না নিলে বাঁধটির বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।’
পাউবো কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ‘প্রায় ৬০০ মিটার অংশজুড়ে চারটি স্থানে কোথাও ফাটল, আবার কোথাও ধস দেখা দিয়েছে। আমরা সরেজমিনে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছি।’
তিনি আরও বলেন, শনিবার থেকে জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত পয়েন্টগুলোতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত প্রতিরক্ষা কাজ শুরু করা না হলে তীরবর্তী এলাকার বহু বাড়িঘর ও আবাদি জমি ব্রহ্মপুত্র নদে বিলীন হয়ে যেতে পারে।





