কুমিল্লায় রেলক্রসিং দুর্ঘটনায় দুই কর্মীকে আসামি করে মামলা

কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় ১২ বাসযাত্রী নিহত ও অন্তত ১৫-২০ জন আহত হওয়ার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে লাকসাম জিআরপি থানায় মামলাটি করেন আহত বাসযাত্রী শেফালী আক্তার। মামলায় বরখাস্ত হওয়া গেটম্যান হেলাল উদ্দিন ও ওয়েম্যান মেহেদী হাসানকে আসামি করা হয়েছে।
লাকসাম জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন খন্দকার মুঠোফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তি ও আহতদের সহায়তায় দুর্ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রোববার দুপুরে নিহত ১২ বাসযাত্রীর মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়। পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মৃত্যুসনদ প্রদান করে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে পাওয়া তালিকা অনুযায়ী নিহতদের মধ্যে লাইজো আক্তার ও তার দুই কন্যা খাদিজা আক্তার (৬) এবং মরিয়ম আক্তার (৪)-এর মরদেহ লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার কমলনগরে নেওয়া হয়। তাদের একসঙ্গে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন লাইজোর স্বামী পিন্টু।
অন্য নিহতদের মধ্যে—বাবুল চৌধুরী – নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী, সোহেল রানা – চুয়াডাঙ্গার জীবননগর, সিরাজুল ইসলাম – যশোরের চৌগাছা, কোহিনুর আক্তার – যশোরের চৌগাছা, নজরুল ইসলাম রায়হান – নোয়াখালী সদর, সাইয়েদা – লক্ষ্মীপুর সদর, জুয়াদ বিশ্বাস – ঝিনাইদহ সদর, ফসিয়ার রহমান – মাগুরার মোহাম্মদপুর, তাজুল ইসলাম – চাঁদপুরের কচুয়ায়া নিজ নিজ এলাকায় দাফন করা হয়েছে।
ঘটনাটি তদন্তে রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় ও কুমিল্লা জোনাল কর্তৃপক্ষ পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। পাশাপাশি কুমিল্লা জেলা প্রশাসন থেকেও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ওসি মো. জসিম উদ্দিন খন্দকার জানান, এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার দুই আসামি—গেটম্যান ও ওয়েম্যান—বর্তমানে পলাতক। তাদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে এবং রেলওয়ের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গেও কথা বলা হবে।
এর আগে, শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষ্মীপুরগামী ‘মামুন পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাসকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি মেইল ট্রেন ধাক্কা দেয়।
সংঘর্ষের পর ট্রেনটি বাসটিকে প্রায় আধা কিলোমিটার পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ১২ জন নিহত হন এবং অন্তত ২০ জন আহত হন।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. শাহ জাহান জানান, হাসপাতালে ভর্তি ১৮ জন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। সোমবার দুপুর পর্যন্ত একজন আহত যাত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া উন্নত চিকিৎসার জন্য দুইজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন