
“মাদকের কালো থাবায় আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংস হতে দেবো না; বুড়িচং ও ময়নামতির মাটিতে কোনো মাদক কারবারি বা তাদের পৃষ্ঠপোষকদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। আজ থেকেই এদের ঠিকানা হবে সোজা অন্ধকার প্রকোষ্ঠ অথবা মাটির নিচে!”— এমন আগুনঝরা ও অত্যন্ত কড়া হুঙ্কারে প্রকম্পিত হয়ে উঠেছে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের সাবের বাজার। মাদকের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসন ও বিএনপির নেতাকর্মীদের এমন অনমনীয় ও আপসহীন অবস্থানে গোটা এলাকায় তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার বিকেলে আয়োজিত এই বিশাল মাদকবিরোধী র্যালি ও প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জনাব লুৎফুর রহমান। সমাবেশে অত্যন্ত কঠোর ও তেজোদীপ্ত বক্তব্য রাখেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ সালাউদ্দিন। তিনি তার কড়া হুশিয়ারিতে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, দলের বা কোনো প্রভাবশালী মহলের নাম ভাঙিয়ে যদি কেউ মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার দুঃসাহস দেখায়, তবে বিএনপি নেতাকর্মীরা তাদের কোনো ছাড় দেবে না; প্রয়োজনে তাদের শক্ত হাতে প্রতিহত করে আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।
ওসির জোরালো বক্তব্যেও মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়। এই দুই শীর্ষ ব্যক্তিত্বের কড়া হুঁশিয়ারি, ইউনিয়ন সভাপতি অধ্যক্ষ সালাউদ্দিন এবং উপস্থিত বিএনপি নেতাকর্মীদের জোরালো হুংকার এবং তীব্র স্লোগানে মুহূর্তেই গোটা এলাকা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। নেতাকর্মীদের এই গর্জন ও হুংকারে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো সাবের বাজার এলাকা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বুড়িচং উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন এবং উপজেলা ত্রাণ সম্পাদক শামসুল আলম ব্যাপারী।
এ ছাড়াও ময়নামতি ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল, মৎস্যজীবী দল, ছাত্রদলসহ স্থানীয় সুশীল সমাজ, নাগরিক সমাজ এবং ‘জাগ্রত বিবেক’ সংগঠনের শত শত নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের জনতা এই প্রতিবাদ মিছিলে ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নেন।
মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারি ও সভার মূল বার্তা:
- শূন্য সহনশীলতা ও সরাসরি ধ্বংসের ঘোষণা: প্রধান অতিথি, সভাপতি ও বিএনপি নেতাকর্মীদের কড়া ভাষণে জানিয়ে দেওয়া হয়, মাদকের সঙ্গে জড়িত কোনো অপরাধী বা তাদের গডফাদারদের কোনো রক্ষা নেই। তাদের আস্তানাগুলো এক একটি করে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।
- নেতাকর্মীদের উত্তাল গর্জন ও হুংকার: সাবের বাজারের প্রধান সড়কে বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের এই ঝোড়ো পদযাত্রা, সভাপতি ও নেতাকর্মীদের হুংকার এবং স্লোগান মাদক কারবারিদের মনে চরম আতঙ্ক ও ত্রাসের সৃষ্টি করে।
- সামাজিক প্রতিরোধ ও চূড়ান্ত বয়কট: বক্তারা বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন, অপরাধীদের সামাজিকভাবে চিরতরে বয়কট করতে হবে এবং তাদের যেকোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়ে এলাকাকে কলঙ্কমুক্ত করতে হবে।
মাদক নামের এই মরণব্যাধি থেকে বুড়িচং-ময়নামতিকে পুরোপুরি মুক্ত না করা পর্যন্ত এই ধরনের কঠোর ও আক্রমণাত্মক অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সমাবেশে দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা দেওয়া হয়।
