প্রিন্ট এর তারিখঃ অক্টোবর ১৭, ২০২৬, ১:৩১ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ অক্টোবর ১৭, ২০২৬, ৫:৪৬ এ.এম
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা, টানা পাঁচ দিনের ছুটি ও ‘বিচ কার্নিভাল ২০২৬’ উৎসবকে ঘিরে সাগরকন্যা কুয়াকাটায় ব্যাপক পর্যটক সমাগমের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের অপরূপ সৌন্দর্যের এই পর্যটনকেন্দ্রে দুই থেকে তিন লাখ পর্যটক ও দর্শনার্থীর আগমন ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সংশ্লিষ্টরা।
পর্যটকদের বরণে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নিয়েছে আবাসিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টগুলো। সংশ্লিষ্ট হোটেল মালিকদের তথ্যমতে, বিভিন্ন মানের আবাসিক হোটেল ও রিসোর্টের ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটক আকর্ষণে হোটেল ভাড়ায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, বিপুলসংখ্যক পর্যটকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশ।
টানা ছুটি ও কার্নিভাল ঘিরে বাড়ছে প্রত্যাশা
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি, সাপ্তাহিক ছুটি এবং আগামী ২৩ ও ২৪ অক্টোবর দুই দিনব্যাপী বিচ কার্নিভাল উৎসব মিলিয়ে পর্যটকদের জন্য তৈরি হয়েছে দীর্ঘ ছুটির সুযোগ। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে পরিবার-পরিজন ৬নিয়ে অনেকেই কুয়াকাটা ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন।
বিচ কার্নিভাল উৎসবে স্থানীয় শিল্পীদের পাশাপাশি দেশের খ্যাতনামা শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিচ ম্যারাথন, বিচ ফুটবলসহ নানা আয়োজন থাকার কথা রয়েছে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, জেলা প্রশাসন ও বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির যৌথ আয়োজনে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সৈকত সাজাতে চলছে প্রস্তুতি
উৎসব সফল করতে ইতোমধ্যে সৈকত এলাকায় প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত ১৪ অক্টোবর কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্যসচিব মো. আরিফুর রহমান এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক মো. ইয়াসীন সাদেক স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে সৈকত এলাকা পরিদর্শন করেন।
এদিকে, ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসনের সম্মেলনকক্ষে দুর্গাপূজা ও বিচ কার্নিভাল উপলক্ষে একটি প্রস্তুতিমূলক সভা আহ্বান করা হয়েছে। সভায় সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে উৎসব সুষ্ঠু ও সফলভাবে আয়োজনের করণীয় নির্ধারণের কথা রয়েছে।
সৈকতের সৌন্দর্য রক্ষা ও পর্যটকদের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে বিচ্ছিন্নভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। পাশাপাশি সৈকত এলাকায় ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারসহ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও চালানো হয়েছে।
হোটেল-রিসোর্টে আগাম বুকিংয়ের চাপ
কুয়াকাটার আবাসিক হোটেল সৈকতের ব্যবস্থাপক রাজিব হোসেন জানান, দুর্গাপূজা, সাপ্তাহিক ছুটি ও বিচ কার্নিভালকে ঘিরে পর্যটকদের ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। ইতোমধ্যে তাঁদের হোটেলের প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়েছে।
কুয়াকাটা সিকদার রিসোর্ট অ্যান্ড ভিলাসের সহকারী ব্যবস্থাপক আল আমিন খান উজ্জ্বল জানান, তাঁদের কটেজ ও ভিলার প্রায় ৭০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়েছে। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে শতভাগ বুকিং সম্পন্ন হওয়ার আশা করছেন তাঁরা।
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম এ মোতালেব শরীফ জানান, দুর্গাপূজা ও বিচ কার্নিভালকে কেন্দ্র করে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়েছে। তবে তৃতীয় শ্রেণির হোটেলগুলোর অধিকাংশ কক্ষ এখনো খালি রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ আয়োজন ঘিরে কুয়াকাটায় লক্ষাধিক পর্যটক ও দর্শনার্থীর আগমন ঘটবে।
নিরাপত্তায় প্রস্তুত প্রশাসন
কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের ইনচার্জ মো. হাবিবুর রহমান জানান, দুর্গাপূজা ও বিচ কার্নিভাল উপলক্ষে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ, জেলা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হবে।
কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক বলেন, “পাঁচ দিনের সরকারি ছুটি ও বিচ কার্নিভালকে কেন্দ্র করে কুয়াকাটাকে নতুন রূপে সাজানোর কাজ চলছে। থানা পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে পর্যটকদের নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে।”
সব মিলিয়ে দীর্ঘ ছুটি, উৎসবমুখর আয়োজন এবং হোটেল-রিসোর্টের বিশেষ ছাড়কে কেন্দ্র করে
কুয়াকাটার পর্যটন খাতে নতুন প্রাণচাঞ্চল্যের প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। এখন পর্যটকদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত, নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মান নিশ্চিত করাই সংশ্লিষ্টদের প্রধান চ্যালেঞ্জ।সম্পাদনা-সংক্রান্ত নোট: মূল লেখায় সরকারি ছুটির দিনের বিবরণ এবং হোটেল বুকিংয়ের হার নিয়ে কিছু পার্থক্য রয়েছে। প্রকাশের আগে সরকারি ছুটির সঠিক তারিখ, ৫০ শতাংশ ছাড়ের সিদ্ধান্ত এবং কার্নিভালের চূড়ান্ত আয়োজন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের