কেরানীগঞ্জের আম বাগিসা এলাকায় একটি কথিত গ্যাস লাইট তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। স্থানীয়দের দাবি, আগুন লাগার সময় কারখানার গেট বন্ধ করে দেওয়ায় ভেতরে থাকা শ্রমিকরা বের হতে পারেননি, যার ফলে হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যেতে পারে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, মিম নামে আনুমানিক ৭ থেকে ৮ বছর বয়সী একটি ছোট মেয়ে ওই কারখানায় কাজ করত। আগুন লাগার সময় সে বের হওয়ার চেষ্টা করলে গেটের দারোয়ান তাকে বাধা দেয়। তবে সাহসিকতার সঙ্গে দারোয়ানকে ধাক্কা দিয়ে সে কোনোভাবে বাইরে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়।
অভিযোগ রয়েছে, মেয়েটি বের হয়ে আসার পরপরই কারখানার গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়, ফলে ভেতরে থাকা অন্যান্য শ্রমিকরা আটকা পড়ে যান। স্থানীয়দের ভাষ্য, যদি গেট বন্ধ না করা হতো, তাহলে হয়তো অনেকেই প্রাণে বেঁচে যেতে পারতেন।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত Sir Salimullah Medical College Morgue-এ ৫টি মরদেহ আনা হয়েছে। এর মধ্যে ৩টি মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং বাকি ২টির পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, কারখানাটিতে ঠিক কতজন শ্রমিক কাজ করতেন তা এখনো নিশ্চিত নয়। এদিকে, নিখোঁজ রয়েছেন বেশ কয়েকজন শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। স্বজনদের দাবি, এখনও তাদের ছোট ছোট শিশুদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, যা পরিস্থিতিকে আরও হৃদয়বিদারক করে তুলেছে।
ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উদ্ধার অভিযান চালায়। আগুন লাগার কারণ, কারখানার বৈধতা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ঝুঁকিপূর্ণ এই কারখানাটি পরিচালিত হচ্ছিল, কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
শেষ কথা:
একটি শিশুর সাহসী বেঁচে ফেরা যেমন আশার গল্প, তেমনি গেট বন্ধ করে শ্রমিকদের আটকে রাখার অভিযোগ এই ঘটনাকে আরও ভয়াবহ ও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।




