![Logo]()
প্রিন্ট এর তারিখঃ অক্টোবর ২১, ২০২৬, ৭:৪৯ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ অক্টোবর ২১, ২০২৬, ১২:০৬ পি.এম
কোটচাঁদপুরে ৮৫ বছরের বৃদ্ধকে মসজিদের সিঁড়িতে বেঁধে মারধর ও স্ট্যাম্পে সই নেওয়ার অভিযোগ
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নের গুড়পাড়া বাজারে (৮৫)বছর বয়সী এক প্রবীণ বৃদ্ধকে মসজিদের সিঁড়ির রডের সাথে সাইকেলের টিউব দিয়ে বেঁধে মারধর এবং জোরপূর্বক সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।
আহত বৃদ্ধের নাম মোঃ মতিয়ার রহমান বিশ্বাস (৮৫)। তিনি গুড়পাড়া বিশ্বাস পাড়ার মৃত কিনু বিশ্বাসের ছেলে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে গুড়পাড়া বাজারে সাদিয়ার দোকানে নিজের মেরামত করতে দেওয়া বাইসাইকেলটি আনতে যান মতিয়ার রহমান বিশ্বাস। দোকানের সামনে পৌঁছালে স্থানীয় মোঃ আরজ হোসেন পরশ চাকর (পিতা: জব্বার চাকর), জামাল উদ্দিন, খলিল উদ্দিন, ওলিয়ার রহমান (পিতা: ফজের আলী) এবং এ ঘটনার কথিত মাস্টারমাইন্ড বজলু (পিতা: আঃ মালেক)-সহ একদল ব্যক্তি তার গতিবোধ করে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্র জানায়, অভিযুক্তরা মতিয়ার রহমানের কাছে ‘জমি কখন লিখে দিবি বল’ বলে বাকবিতণ্ডা শুরু করে। একপর্যায়ে তারা বৃদ্ধকে টেনেহিঁচড়ে গুড়পাড়া জামে মসজিদের সিঁড়ির রডের সাথে সাইকেলের টিউব দিয়ে বেঁধে রেখে মধ্যযুগীয় কায়দায় মারধর করে। বাজারের সাধারণ মানুষ বিষয়টি দেখে বাধা দিলে, অভিযুক্তরা তাকে সেখান থেকে জোরপূর্বক জগদীশপুর মাঠের ভেতরে তুলে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি ফাঁকা (সাদা) স্ট্যাম্প ও লিখিত কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়।
উল্লেখ্য, বৃদ্ধ মতিয়ার রহমান বিশ্বাসের চার ছেলে ও দুই মেয়ে সকলেই সমাজ ও প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে কর্মরত। ঘটনার খবর পেয়ে পরিবার ও স্বজনরা তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ কল করেন। ফোন পেয়ে গুড়পাড়া পুলিশ ফাঁড়ির সেকেন্ড অফিসার দেলোয়ার হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে জগদীশপুর মাঠের ভেতর অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করে ভুক্তভোগী বৃদ্ধকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন। এ সময় বৃদ্ধকে রক্ষায় তার ভাইপো সামাউল এগিয়ে এলে তাকেও বেদম মারধর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রহমান বিশ্বাস ক্ষোভ ও আহাজারি প্রকাশ করে বলেন—
"আমার জীবনের শেষ বয়সে এসে এমন অপমান সইতে হবে তা কখনো ভাবিনি। তারা আমাকে পশুর মতো মসজিদের সিঁড়ির সাথে সাইকেলের টিউব দিয়ে বেঁধে রেখে প্রকাশ্যে মারধর করেছে। আমার চার ছেলে ও দুই মেয়ে সকলেই সমাজের উচ্চপর্যায়ে চাকরি করে; বাজারে ও সমাজে আমার একটা দীর্ঘদিনের মান-সম্মান রয়েছে। প্রকাশ্যে এভাবে বেঁধে নির্যাতন করে আমার সেই সম্মান তারা ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। এরপর মাঠে নিয়ে যেয়ে জোর করে স্ট্যাম্পে সই করিয়ে নিয়েছে। আমি এই অন্যায়ের বিচার চাই। আমি ঝিনাইদহ জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার (এসপি) মহোদয়ের কাছে এর সুষ্ঠু ও কঠোর বিচার প্রার্থনা করছি।"
ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত মোঃ বজলু হোসেনের নিকট এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন—কাজে আছি বলে ফোন টি কেটে দেন।
পুলিশের বক্তব্য (গুড়পাড়া পুলিশ ফাঁড়ি):
গুড়পাড়া পুলিশ ফাঁড়ির সেকেন্ড অফিসার মোঃ দেলোয়ার হোসেন ঘটনার বিষয়ে জানতে বার বার ফোন দিলেও ফোনটি রিসিভ না হওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ৮৫ বছরের এক প্রবীণ ব্যক্তির ওপর এমন নির্মম নির্যাতনের ঘটনায় গুড়পাড়া বাজারসহ পুরো কোটচাঁদপুর উপজেলায় তীব্র নিন্দার ঝড় বইছে। এলাকাবাসী অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
Copyright © 2026 Ajker Khobur. All rights reserved.