
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন অঙ্গনে আলোয় থাকেন অভিনেতা,পরিচালক কিংবা উপস্থাপকরা। কিন্তু একটি চলচ্চিত্র বা টেলিভিশন প্রযোজনার সফলতার পেছনে যাদের নীরব পরিশ্রম থাকে, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ক্যামেরাকর্মী, সিনেমাটোগ্রাফার, প্রযোজনা ব্যবস্থাপক এবং মিডিয়া সমন্বয়কারীরা। সেই নেপথ্যের কর্মীদের একজন শহিদুল ইসলাম সজল।
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার সন্তান শহিদুল ইসলাম সজল, তিনি উল্লাপাড়ার স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান উল্লাপাড়া মার্চেন্টস পাইলট মডেল হাই স্কুল ও উল্লাপাড়া বিজ্ঞান কলেজ থেকে পড়াশুনা শেষে ২০১৬ সালে ঢাকার আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউট যা (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত) এখানে ভিডিও এডিটিং, সিনেমাটোগ্রাফি ও ফিল্ম মেকিং বিষয়ে পড়াশোনা করেন। শিক্ষা শেষ করেই একই প্রতিষ্ঠানের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগে প্রায় সাত বছর কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি “স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এর জার্নালিজম কমিউনিকেশন এন্ড মিডিয়া স্টাডিস বিভাগে মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন”, ও ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ফিল্ম প্রোডাকশন কোম্পানি Makerbox Films এ তিনি ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সহযোগী প্রযোজক হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।
প্রায় এক দশকের কর্মজীবনে শহিদুল ইসলাম সজল ক্যামেরার পেছনের একজন দক্ষ নির্মাতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছেন। এরই মধ্যে তাঁর নির্মাণ ও কারিগরি সম্পৃক্ততায় ৮ থেকে ১০ টি মিউজিক ভিডিও যা বাংলাদেশের বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত হয়েছে এবং সেগুলো ইউটিউবেও প্রকাশিত রয়েছে। পাশাপাশি দুই থেকে তিনটি নাটক চ্যানেল আই সহ বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে সম্প্রচার হয়েছে।
শুধু বিনোদনমূলক কাজেই নয়, তথ্যভিত্তিক নির্মাণেও রয়েছে তাঁর সফল পদচারণা । তাঁর নির্মিত ও সম্পৃক্ত একাধিক ডকুমেন্টারি এদেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন উৎসবে প্রদর্শিতি হয়েছে এছাড়া টেলিভিশন বিজ্ঞাপন (TVC), শর্টফিল্ম এবং বিভিন্ন সৃজনশীল ভিজ্যুয়াল প্রজেক্ট নির্মাণে তিনি নিয়মিত কাজ করে চলেছেন। এসব শর্টফিল্ম ও প্রযোজনার কয়েকটি দেশ-বিদেশের প্রতিযোগিতামূলক চলচ্চিত্র উৎসবেও অংশগ্রহণ করেছে।
চলচ্চিত্রের কারিগরি দিকের পাশাপাশি তিনি প্রযোজনা ব্যবস্থাপনাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। সরকারি অনুদানের চলচ্চিত্র “একটি না বলা গল্প” – এ প্রোডাকশন ও ড্রোন অপারেটর এবং “দূরে” চলচ্চিত্রে প্রোডাকশন কন্ট্রোলার হিসেবে কাজ করেছেন। এছাড়া তিনি স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও প্রযোজক হিসেবেও কাজ করছেন।
তাঁর সাম্প্রতিক কাজগুলোর মধ্যে বিশেষভাবে আলোচিত “ফ্যাঁকড়া” ওয়েব সিরিজ। এতে তিনি Associate Producer ও Second Unit Cinematographer হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে সিরিজটি বাংলাদেশের জনপ্রিয় OTT প্ল্যাটফর্ম বঙ্গ (BONGO)- এ প্রচারিত হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও রয়েছে তাঁর কাজের স্বীকৃতি।
২০১৯ সালের নির্মিত একটি ডকুমেন্টারি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে মনোনয়ন লাভ করে। এছাড়া ২০২১ সালে নির্মিত শর্ট ফিল্ম “নকশী কথা” আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে মনোনীত হয়, যা তাঁর নির্মাণশৈলীর একটি উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি।
শুধু নির্মাণ নয়, প্রশিক্ষণ কার্যক্রমেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর School of Naval Intelligence-এ সিনেমাটোগ্রাফি ও ভিডিও এডিটিংয়ের প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শান্ত-মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়, পাঠশালা ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগ এবং বাংলাদেশ সিনেমা অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমেও যুক্ত ছিলেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আশাবাদী শহিদুল ইসলাম সজল। তিনি জানান, বড় পরিসরের চলচ্চিত্র, ওয়েব কনটেন্ট এবং আন্তর্জাতিক মানের নতুন নতুন ফিল্ম নির্মাণের পরিকল্পনা ইতোমধ্যে হাতে নেওয়া হয়েছে। তাঁর বিশ্বাস, বাংলাদেশের গল্প, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনচিত্রকে আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে আরও শক্তিশালীভাবে তুলে ধরাই হবে আগামী দিনের প্রধান লক্ষ্য।
ক্যামেরার পেছনে থেকে দীর্ঘদিন ধরে নীরবে কাজ করে যাওয়া এই নির্মাতার পথচলা প্রমাণ করে আলোয় না থেকেও আলো সৃষ্টি করা যায়। আর সেই আলোরই একজন নিবেদিত কারিগর শহিদুল ইসলাম সজল।




