
যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীন ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে খুলনার ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। শুধু খুলনা নয়, পুরো যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীন ১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এবার পাসের খাতা শূন্য। এমন ফলাফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান কার্যক্রম ও শিক্ষার মান নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
যশোর শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, খুলনার শতভাগ অকৃতকার্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে মডেল মহিলা কলেজ, ইনডিপেনডেন্ট আইডিয়াল কলেজ, কপিলমুনি সহচারী বিদ্যামন্দির কলেজ, কয়রা শাকবাড়িয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কমরেড রতন সেন কলেজিয়েট গার্লস কলেজ এবং খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলস স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, মডেল মহিলা কলেজ থেকে তিনজন, ইনডিপেনডেন্ট আইডিয়াল কলেজ থেকে ১১ জন, কপিলমুনি সহচারী বিদ্যামন্দির কলেজ থেকে তিনজন, কয়রা শাকবাড়িয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২৭ জন, কমরেড রতন সেন কলেজিয়েট গার্লস কলেজ থেকে একজন এবং খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলস স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি পাইকগাছার কপিলমুনি সহচারী বিদ্যামন্দির কলেজে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় পাঁচজন অংশ নিয়ে কেউ পাস করতে পারেনি। চলতি বছরও তিনজন পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। অর্থাৎ টানা দুই বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটির ফলাফলে কোনো উন্নতি দেখা যায়নি।
এদিকে, এমন হতাশাজনক ফলাফলের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে যশোর শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ। বোর্ডের সচিব অধ্যাপক ড. আব্দুল মতিন জানান, ২০২৫ সালে শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তাদের বক্তব্যও শোনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কারণগুলো বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





