গলাচিপায় মৎস্য চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, স্বজনপ্রীতি, ঘুষ ও তালিকা জালিয়াতিতে বঞ্চিত প্রকৃত জেলেরা

‎পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় মৎস্য চলে নিয়ে সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন ইউনিয়নে নানা অনিমনের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রভাব, চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের ভোট ধরে রাখতে স্বজনপ্রীতি,  স্লিপের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন, সঠিক জেলে তালিকার হালনাগাদ না করা, অন্য পেশার ব্যাক্তিকে জেলে হিসেবে মাস্টার রোলের তালিকায় অন্তরভুক্ত এসব কারণে প্রকৃত জেলেরা তালিকা ভুক্ত না হওয়ায় বঞ্চিত হচ্ছে মৎস্য চাল থেকে।
‎গত ৩০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার চরকাজল ইউনিয়ন পরিষদে বেলা ১১টার দিকে ১১ নং চর কাজল ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মনির প্যাদা চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান মোল্লার আদেশ ও নির্দেশনা উপেক্ষা করে তার মনোনীত ব্যাক্তিদের দেওয়া স্লিপ অনুযায়ী মৎস্য চাল বিতরণী করেন। এতে মাস্টার রোলের তালিকায় থাকা অধিকাংশ মৎস্য চাল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন উক্ত ওয়ার্ডের স্থানীয় জেলেরা। আরও অভিযোগ করেছেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও ট্যাগ অফিসার মো. সাইদুল ইসলামের উপস্থিতিতে পুলিশের বাধা, নিষেধ আদেশ অমান্য করে চেয়ারম্যানের অনুমতিকে তোয়াক্কা করে ইউপি সদস্য মনির এ মৎস্য চাল বিতরণ করেন।
‎এখানেই শেষে নয়, ইউপি সদস্য মনিরের ভাই বসার জেলে তালিকায় নাম না থাকা সত্যেও শ্লিপের মাধ্যমে মৎস্য চাল নেওয়ার বিষয়টি নিজ মুখে স্বীকার করেন ছোটশিবা গ্রামের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আমির হোসেনের ছেলে আলী আজগর।
‎রবিন মোল্লা জানান, “মনির মেম্বার আমার বড় ভাইয়ের কাছে ফোন দিছে তোমার বিগত দিনে চাল পাওনা, আর পাবাও না। তাই তিনটা স্লিপ নিতে ৩ হাজার টাকা লাগবে। আমি ৩ হাজার টাকা লইয়া যাইয়া স্লিপ আনছি”।
‎মোহাম্মদ রফিক ঢালি জানান, মৎস্য অফিসে গেছি গলাচিপা। অফিস থেকে বলছে আমার মৃত্যু তালিকায় নাম আইসা পরছে। তাই আমি চাল পাবনা। তিনি আরও জানান, মৎস্য নিবন্ধন কার্ড হওয়ার পর থেকে সে মৎস্যজীবী জেলে চাল পেয়ে আসছে। তবে বাঁধ সাজে মৃত্যু তালিকায় নাম থাকায় তাকে আর চাল দেওয়া হচ্ছে না। তার প্রশ্ন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে, “জীবিত থেকেও কেন মৃত্যু তালিকায় নাম আসলো”?
‎আমেনা বেগম জানান, আমিনুল ইসলাম আমার স্বামী। তার পক্ষে টোকেন নিয়ে চাল আনতে গেলে মেম্বার মনির ৩ জনকে ৩০ কেজির ৪টা বস্তা না দিয়ে ৩টি বস্তু দিয়ে ১ বস্তা রেখে দিয়েছে। তাতে জন প্রতি ১ বস্তা করে পেয়েছি।
‎চরকাজল ইউপি ৬ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. মনির জানান, সকল অভিযোগ মিথ্যা, আমি কারও কাছ থেকে কোন টাকা নেইনি।
‎চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান মোল্লা জানান, বর্তমানে গলাচিপা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে মৎস্য চাল বিতরণে বিভিন্ন ভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। আমাদের ইউনিয়ন প্রবাসী ও কল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর এলাকা। এখানে কোন বিশৃঙ্খলা হলে সেটা প্রতিমন্ত্রীর সম্মানের প্রশ্ন। তাই সকল ইউপি সদস্যদের মৎস্য চাল বিতরণের পূর্বে সতর্ক করে দেওয়া হয়। এছাড়া ৬ নম্বর ওয়ার্ডে মৎস্য চাল বিতরণে সমস্যা হওয়ার আশংকার কারণে ইউপি সদস্য মো. মনির প্যাদাকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত চাল বিতরণ করতে নিষেধ করি। কিন্তু সে আমাকে অবহিত না করেই মৎস্য চাল বিতরণ করে। আমি তাকে ডেকেছি সে যদি না আসে তাহলে প্রশাসনিক ভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
‎গলাচিপা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জহিরুনবী জানান, আমি বিষয়টি জানিনা, আপনাদের মাধ্যমে শুনতে পেয়েছি। সুবিধাভোগী জেলেরা অভিযোগ করলে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
‎উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুজর মো. ইজাজুল হক জানান, আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। এ ঘটনার সাথে সম্পর্কিত সকলের সাথে কথা বলবো।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত পরাজয় অনিবার্য: কট্টর ইসরায়েল-পন্থী রবার্ট ক্যাগ্যান

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী নিও-কনজারভেটিভ তাত্ত্বিক এবং কট্টর ইসরায়েল-পন্থী হিসেবে পরিচিত রবার্ট

গলাচিপায় মৎস্য চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, স্বজনপ্রীতি, ঘুষ ও তালিকা জালিয়াতিতে বঞ্চিত প্রকৃত জেলেরা

‎পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় মৎস্য চলে নিয়ে সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন ইউনিয়নে নানা