প্রিন্ট এর তারিখঃ অগাস্ট ২৪, ২০২৬, ৩:২৪ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ অগাস্ট ২৪, ২০২৬, ৬:৪৯ এ.এম
গাজীপুরে চড়া দামে সার কিনছেন কৃষক, জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
গাজীপুরের মাঠে মাঠে আমন ধান রোপণ ও পরিচর্যায় ব্যস্ত চাষীরা। ধান রোপণ এর পর এই সময়ে দরকার জমিতে সার প্রয়োগের কিন্তু এই সার নিয়েই যেনও চলছে আয়নাবাজি। কৃষি মন্ত্রণালয়ের কাগজে-কলমে সার বরাদ্দ থাকলেও মাঠের চিত্র পুরো ভিন্ন। সময়মতো সার হাতে পাচ্ছেন না কৃষকরা। ডিলারের কাছে সার নেই অথচ লাইসেন্স ছাড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলার খোলা বাজারের ব্যবসায়ীরা সার বিক্রি করছেন চড়া দামে। কৃষক আর ফসলের যখন এমন দুরবস্থা তখন ডিলার আর কৃষি কর্মকর্তারা দুষছেন একে অপরকে। এদিকে সচেতন নাগরিকরা বলছেন, সার ও সারের মূল্য নিয়ে এমন চোর-পুলিশ খেলা ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে খাদ্য নিরাপত্তায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, গাজীপুরের সব উপজেলায় বিভিন্ন ইউনিয়নের আনাচে-কানাচে লাইসেন্স ছাড়া খোলা বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সার। কৃষকদের অভিযোগ, চাহিদামতো পাওয়া যাচ্ছে না সার। খুচরা বিক্রেতারা সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে বস্তাপ্রতি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বেশি নিচ্ছেন। ডিলাররা নামমাত্র সার সাধারণ কৃষকদের দিয়ে বরাদ্দের সিংহভাগই বড় ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দিচ্ছেন। নিয়মনীতি ভেঙে অনেকে কমিশনের বিনিময়ে সাব-ডিলারদের কাছে সার হস্তান্তর করছেন। এমনকি গুদাম থেকে তোলার আগেই বরাদ্দের অর্ধেক সার হাতবদল হয়ে যাচ্ছে। তবে প্রমাণসহ অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস কৃষি বিভাগের।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, কৃষক পর্যায়ে সরকার নির্ধারিত প্রতি বস্তা (৫০ কেজির) টিএসপি সারের খুচরা মূল্য ১ হাজার ৩৫০ টাকা (২৭ টাকা কেজি), এমওপি ১ হাজার টাকা (২০ টাকা কেজি) এবং ডিএপি ১ হাজার ৫০ টাকা (২১ টাকা কেজি)। প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) ইউরিয়া সারের খুচরা মূল্য ১ হাজার ৩৫০ টাকা (২৭ টাকা কেজি)। তবে ওয়ার্ড পর্যায়ে খুচরা বিক্রেতা ও লাইসেন্সবিহীন ব্যবসায়ীরা এর চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশে সারের মোট চাহিদা প্রায় ৬৭ লাখ ৭০ হাজার ৫০০ টন। এর মধ্যে ইউরিয়ার চাহিদা ২৬ লাখ ২২ হাজার টন, টিএসপি ৯ লাখ টনের বেশি, ডিএপি প্রায় ১৩ লাখ ৫৫ হাজার টন এবং এমওপি প্রায় ৯ লাখ ৭০ হাজার টন। এর বিপরীতে বর্তমানে মোট মজুদ প্রায় ১৬ লাখ টনের কাছাকাছি।
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, কৃষিপণ্য উৎপাদনের মৌসুমে ডিলাররা সারের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে অতিরিক্ত দাম আদায় করছেন। নজরদারির অভাবে বেপরোয়া ডিলার-খুচরা বিক্রেতা চক্র সারাদেশে সারের দামে অরাজকতা তৈরি করেছে। রয়েছে সরবরাহে ঘাটতির অভিযোগ। অভিযানের খবর পাওয়া গেলেও তা মাঠে স্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারছে না।
শ্রীপুর উপজেলার কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা হলে তারা জানান, অতিরিক্ত দাম নেয়া হলেও তাদের কোনো রসিদ দেয়া হচ্ছে না। সরকার নির্ধারিত পরিবেশকেরা ভর্তুকির সার বাইরে কালোবাজারে বিক্রির কারণে সংকট দেখা দিচ্ছে। পরে খোলাবাজারে সেই সার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এক এলাকার সার অন্য এলাকায় পাচারও করা হচ্ছে। অথচ কৃষি বিভাগের কোনো তদারকি নেই।
কাপাসিয়া উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি বলেন, কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় সরকার কঠোর থাকবে। কৃষিকে বাঁচাতে হলে কৃষকের স্বার্থ আগে রক্ষা করতে হবে। ভালো ফলনের জন্য সার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।
ডিলার না হয়েও কিভাবে চড়া দামে এত বিপুল পরিমাণ সার বিক্রি করছেন, কেনও সার পাচ্ছে না কৃষকরা এ বিষয়ে জানার জন্য গাজীপুর জেলা প্রশাসক এবং জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতির মুঠোফোনে ফোন দেয়া হলেও তিনি ফোন ধরেন নি। পরে এ বিষয়ে কথা হয় গাজীপুর জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ শাহরিয়ার নজিরের সাথে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে ডিসি স্যার কথা বলবেন। তবে আমরা অভিযান পরিচালনা করি নিয়মিত।
Copyright © 2026 Ajker Khobur. All rights reserved.