
ক্যাডেট হাউজিংয়ের বিপরীতে নাটা’র দেয়ালসংলগ্ন সড়কে পড়ে ছিল নবজাতকের লাশ, এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি
গাজীপুর সদর থানাধীন ক্যাডেট হাউজিংয়ের বিপরীত পাশে নাটা’র দেয়ালসংলগ্ন পায়ে হাঁটার রাস্তা থেকে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় এক অজ্ঞাত নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কে বা কারা নবজাতকটিকে ফেলে রেখে গেছে, তা এখনো জানা যায়নি। এমন হৃদয়বিদারক ও অমানবিক ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ক্যাডেট হাউজিংয়ের বিপরীত পাশে নাটা’র দেয়ালসংলগ্ন পায়ে হাঁটার রাস্তার পাশে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় নবজাতকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিষয়টি নজরে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়। পরে খবর পেয়ে গাজীপুর সদর থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) কাজল হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এসআই কাজল হোসেন নবজাতকের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ের জন্য মরদেহটি ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে মর্গে পাঠানো হয়েছে।
কে বা কারা এমন নিষ্ঠুর কাজ করেছে, কী কারণে নবজাতকটিকে এভাবে ফেলে রাখা হয়েছে এবং শিশুটির জন্মের সঙ্গে কারা জড়িত—এসব প্রশ্ন এখন এলাকাবাসীর মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নবজাতকের পরিচয় কিংবা তাকে ফেলে যাওয়ার সঙ্গে জড়িত কারও বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
একটি নিষ্পাপ শিশু পৃথিবীর আলো দেখার পর এমন নির্মম পরিণতির শিকার হবে—এ ঘটনা সত্যিই অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও মানবিক মূল্যবোধকে নাড়া দেওয়ার মতো। নবজাতকটির কী অপরাধ ছিল? কেন তাকে নিরাপদ আশ্রয় না দিয়ে পলিথিনে মুড়িয়ে রাস্তার পাশে ফেলে রাখা হলো? এমন প্রশ্ন তুলে স্থানীয় সচেতন মহল ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নবজাতকের পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে প্রয়োজনীয় তদন্ত অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে এ ধরনের অমানবিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সামাজিক সচেতনতা ও মানবিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করা প্রয়োজন।
এখন এলাকাবাসীর একটাই দাবি—নবজাতকের পরিচয় শনাক্ত করে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং এর সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।




