প্রিন্ট এর তারিখঃ অগাস্ট ২৫, ২০২৬, ৫:১০ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ মে ১০, ২০২৬, ৯:১৭ এ.এম
গুরুদাসপুরে মৎস্য খাত উন্নয়নে চার দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস
নাটোরের গুরুদাসপুরে মৎস্য কল্যাণ সমিতির আয়োজনে অনুষ্ঠিত বিশেষ সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বৃহত্তর চলনবিল এলাকার উন্নয়ন ও মৎস্য খাতের চার দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন। শনিবার (৯ মে) বিকেল ৫টায় গুরুদাসপুরের চাপিলায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলনবিল অধ্যুষিত গুরুদাসপুরের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং এলাকার অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ উত্থাপিত চারটি দাবির বিষয়ে তিনি ইতিবাচক সাড়া দেন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের আশ্বাস প্রদান করেন।
সভায় প্রধান উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এমপি।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, গুরুদাসপুরে প্রায় ১২ হাজার পুকুরে বছরে প্রায় ১৬ হাজার মেট্রিক টন মাছ উৎপাদিত হয়। স্থানীয় চাহিদা মাত্র ৫ হাজার মেট্রিক টন হওয়ায় অবশিষ্ট প্রায় ১১ হাজার মেট্রিক টন মাছ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া বৃহত্তর চলনবিলের প্রাকৃতিক মাছেরও রয়েছে ব্যাপক সম্ভাবনা। দেশীয় মাছের ‘বিল নার্সারি’ স্থাপন করা হলে টেংড়া, শিং, মাগুর, পাবদা, কৈ ও গজারসহ বিভিন্ন প্রজাতির পোনা উৎপাদন সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, এলাকার মৎস্য খাতকে আরও সমৃদ্ধ করতে ফিশ প্রসেসিং সেন্টার, ফিশ ল্যান্ডিং সেন্টার ও ফিশ গবেষণাগার স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চলনবিলের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, স্বাভাবিক জলপ্রবাহ পুনরুদ্ধার এবং বিলের নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে, যাতে দেশীয় মাছের উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পায়। দেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশেও মাছ রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি করতে চলনবিলকে আধুনিক ও পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হবে বলেও জানান তিনি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জিয়া হায়দার চৌধুরী।
সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. আ. ন. ম. বজলুর রশিদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন ড. মোস্তাফিজুর রহমান, নাটোরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক আরিফুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবুল হায়াত এবং গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজসহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য ও দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাসে গুরুদাসপুরবাসীর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও আনন্দের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা মনে করছেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে চলনবিল অঞ্চল এবং গুরুদাসপুরের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
Copyright © 2026 Ajker Khobur. All rights reserved.